দ: 24 পরগনা জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধর্মীয় গুরুত্ব এবং রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এই জেলার প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলি নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. সুন্দরবন (Sundarbans)

এটি এই জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এখানেই অবস্থিত।

 * প্রধান আকর্ষণ: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, নোনা জলের কুমির, হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

 * বিশেষত্ব: সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার, সুধন্যখালি এবং দোবাঁকি ক্যাম্প থেকে বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এখানকার বাদাবন বা ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

২. গঙ্গাসাগর (Gangasagar)

সাগর দ্বীপে অবস্থিত এই স্থানটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। এখানে গঙ্গা নদী বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

 * প্রধান আকর্ষণ: কপিল মুনির আশ্রম।

 * বিশেষত্ব: প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে এখানে বিশাল ‘গঙ্গাসাগর মেলা’ হয়, যেখানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান করতে আসেন।

৩. বকখালি ও হেনরি আইল্যান্ড (Bakkhali & Henry’s Island)

শান্ত ও নির্জন সমুদ্র সৈকতের জন্য এই জায়গাটি পরিচিত।

 * প্রধান আকর্ষণ: বকখালি সমুদ্র সৈকত, ফ্রেজারগঞ্জ এবং বনবিবির মন্দির।

 * বিশেষত্ব: হেনরি আইল্যান্ডে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সমুদ্রের দৃশ্য ভোলার মতো নয়।

৪. ফ্রেজারগঞ্জ (Frasergunj)

বকখালির খুব কাছেই অবস্থিত এই জায়গাটি তার সাদা বালির সৈকত এবং বিশাল উইন্ডমিল বা বায়ুকলের জন্য পরিচিত। এখানে মৎস্যজীবীদের কর্মব্যস্ততা এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য খুব সুন্দর।

৫. ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour)

হুগলি নদী যেখানে বাঁক নিয়ে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে, সেখানে অবস্থিত এই মনোরম পর্যটন কেন্দ্র।

 * প্রধান আকর্ষণ: নদীর বিশাল রূপ এবং ব্রিটিশ আমলের কেল্লার ধ্বংসাবশেষ (চিঙ্গরিখালি কেল্লা)।

 * বিশেষত্ব: কলকাতা থেকে কাছে হওয়ায় এটি একটি জনপ্রিয় উইকএন্ড ট্রিপ বা পিকনিক স্পট।

৬. সজনেখালি ও ঝড়খালি (Sajnekhali & Jharkhali)

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই জায়গাগুলি মূলত ইকো-ট্যুরিজমের জন্য বিখ্যাত। ঝড়খালিতে একটি বাঘ পুনর্বাসন কেন্দ্র (Tiger Rescue Centre) রয়েছে।

৭. সুন্দরবনের গোসাবায় অবস্থিত বেকন বাংলো হলো স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের নির্মিত একটি ঐতিহাসিক কাঠের বাংলো, যেখানে ১৯৩২ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবস্থান করেছিলেন।

৮. নেতিধোপানি হলো সুন্দরবনের একটি ঐতিহাসিক এবং পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকা, যা মূলত মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের পৌরাণিক কাহিনী এবং একটি প্রাচীন শিব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত।

৯. সুধন্যখালি হলো সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্তর্গত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যা মূলত বন্যপ্রাণী (বিশেষ করে বাঘ ও হরিণ) দেখার জন্য তৈরি ওয়াচ টাওয়ার এবং এর মিষ্টি জলের পুকুরের জন্য বিখ্যাত।

১০. দোবাঁকি হলো সুন্দরবনের একটি অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, যা মূলত মাটি থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত আধা কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ক্যানোপি ওয়াক’ বা ঘেরা পথের মাধ্যমে জঙ্গল দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত।

একনজরে দেখার মতো আরও কিছু জায়গা:

 * লোথিয়ান আইল্যান্ড বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য: পাখি প্রেমীদের জন্য স্বর্গ।

 * গদখালি ও সোনাখালি: সুন্দরবন যাত্রার প্রধান লঞ্চ ঘাট।

Scroll to Top