জটার দেউল
দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মণি নদীর তীরে অবস্থিত জটার দেউল বাংলার মন্দির স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. জটার দেউলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
জটার দেউল একটি প্রাচীন শিব মন্দির। ১৮৭৫ সালে জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় এটি আবিষ্কৃত হয়। মন্দিরে পাওয়া একটি তাম্রশাসন অনুযায়ী (যা বর্তমানে হারিয়ে গেছে), এটি ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে (১০৩২ বিক্রম সংবৎ) রাজা জয়চন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তবে স্থাপত্যশৈলী দেখে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি ১১শ বা ১২শ শতাব্দীর সৃষ্টি। এটি ওড়িশার ‘রেখ দেউল’ শৈলীতে নির্মিত।
২. কী দেখবেন?
* স্থাপত্যশৈলী: প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এই দেউলটি পোড়ামাটির পাতলা ইঁট দিয়ে তৈরি। এর চূড়াটি বেশ সরু এবং উপরের দিকে ধাপে ধাপে উঠে গেছে। কোনো সিমেন্ট বা বালি ছাড়াই ইঁটের নিখুঁত গাঁথনি আপনাকে অবাক করবে।
* টেরাকোটার কাজ: সময়ের প্রভাবে অনেক অলংকরণ নষ্ট হয়ে গেলেও, মন্দিরের গায়ে এখনও কিছু জ্যামিতিক নকশা এবং লতাপাতার কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়।
* আশেপাশের পরিবেশ: মন্দিরটি একটি উঁচু ঢিবির ওপর অবস্থিত। চারপাশে গাছপালা ঘেরা শান্ত পরিবেশ আপনাকে নির্জনতার স্বাদ দেবে। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মণি নদী এলাকাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৩. ভ্রমণের সেরা সময়
* শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): ভ্রমণের জন্য এটিই সেরা সময়। আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
* শিবরাত্রি: প্রতি বছর শিবরাত্রিতে এখানে বড় মেলা বসে। আপনি যদি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভিড় পছন্দ করেন, তবে এই সময় যেতে পারেন।
কিছু জরুরি টিপস:
* খাবার ও জল: মন্দিরের আশেপাশে বড় কোনো রেস্তোরাঁ নেই। তাই সাথে পর্যাপ্ত জল এবং হালকা শুকনো খাবার রাখা ভালো। মথুরাপুর স্টেশনের কাছে ভালো খাবারের দোকান পাবেন।
* সময়: খুব ভোরে রওনা দিলে বিকেলের মধ্যেই কলকাতা ফিরে আসা সম্ভব।
* ফটোগ্রাফি: মন্দিরের উচ্চতা এবং কারুকাজ ফ্রেমবন্দি করার জন্য ক্যামেরা সাথে রাখতে ভুলবেন না।
কিভাবে এখানে আসবেন
জটার দেউল যেতে হলে আপনাকে কলকাতার শিয়ালদহ থেকে যাত্রা শুরু করতে হবে।
* ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর বা নামখানা লোকাল ধরে মথুরাপুর রোড স্টেশনে নামতে হবে।
* সড়কপথে (অটো/টোটো): স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়েই আপনি জটার দেউল যাওয়ার অটো বা টোটো পাবেন। দূরত্ব প্রায় ৫-৬ কিমি। গ্রাম্য মেঠো পথ আর দুপাশে সবুজের সমারোহ দেখতে দেখতে আধঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন গন্তব্যে।
