হেনরিজ আইল্যান্ড
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বকখালির কাছে অবস্থিত হেনরিজ আইল্যান্ড (Henry’s Island) বর্তমানে উইকএন্ড ট্রিপের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি জায়গা। নির্জন সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ অরণ্য আর সাদা বালির চরের জন্য এটি পরিচিত।
১. প্রধান আকর্ষণসমূহ
* নির্জন সৈকত: বকখালির তুলনায় এখানকার সৈকত অনেক বেশি পরিষ্কার এবং ভিড়মুক্ত। সমুদ্রের নীল জল আর সাদা বালির মিশ্রণ মনকে শান্ত করে। সূর্যাস্তের সময় আকাশ যখন লালচে-সোনালী রঙ ধারণ করে, তখন এখান থেকে এক অপার্থিব দৃশ্য দেখা যায়।
* লাল কাঁকড়ার গালিচা: এখানকার নির্জন সৈকতের প্রধান আকর্ষণ হলো হাজার হাজার লাল কাঁকড়া। সৈকতের বালির ওপর দিয়ে যখন এরা ছুটে বেড়ায়, তখন দূর থেকে মনে হয় যেন লাল গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। মানুষের পায়ের শব্দ পেলেই এরা গর্তে লুকিয়ে পড়ে।
* ওয়াচ টাওয়ার: এখানকার ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়ালে একদিকে দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র আর অন্যদিকে ঘন সবুজ বনের অপরূপ মেলবন্ধন চোখে পড়ে, যা ছবির মতো সুন্দর।
* মৎস্য প্রকল্প: এখানে পশ্চিমবঙ্গ মৎস্য দপ্তরের অনেকগুলো পুকুর বা ‘ভেড়ি’ আছে যেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ হয়।
* ম্যানগ্রোভ বন: ছোট ছোট কাঠের ব্রিজ পেরিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের মধ্য দিয়ে সমুদ্রের দিকে হাঁটার অভিজ্ঞতা বেশ রোমাঞ্চকর।
২. কোথায় থাকবেন?
হেনরিজ আইল্যান্ডে থাকার জন্য মূলত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য উন্নয়ন নিগমের (SFDC) দুটি গেস্ট হাউস সবচেয়ে জনপ্রিয়:
* সুন্দরী গেস্ট হাউস (Sundari Complex): সমুদ্র সৈকতের খুব কাছে।
* ম্যানগ্রোভ গেস্ট হাউস (Mangrove Complex): এটি দ্বীপের শুরুর দিকে অবস্থিত।
* বুকিং: অনলাইনে wbsfdcltd.com সাইট থেকে আগেভাগে বুকিং করা ভালো। এছাড়া বকখালিতে প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে, সেখানে থেকেও হেনরিজ আইল্যান্ড ঘুরে নেওয়া যায়।
৩. খাওয়া-দাওয়া
এখানে গেলে টাটকা সামুদ্রিক মাছ (যেমন- ইলিশ, পমফ্রেট, পারশে) অবশ্যই ট্রাই করবেন। গেস্ট হাউসের রেস্তোরাঁতেই অর্ডারের ভিত্তিতে সুস্বাদু বাঙালি খাবার পাওয়া যায়।
৪. জরুরি টিপস
* সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস ভ্রমণের সেরা সময়।
* সতর্কতা: সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার রাস্তাটি বিকেল ৪:৩০ থেকে ৫:০০ টার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার খাতিরে, তাই বিকেলের আগেই সৈকত ঘুরে নিন।
* প্রয়োজনীয় জিনিস: সাথে টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম রাখা জরুরি কারণ এটি একটি নিরিবিলি জঙ্গল ঘেরা এলাকা।
কিভাবে এখানে আসবেন
কলকাতা থেকে হেনরিজ আইল্যান্ডের দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিমি। যাওয়ার প্রধান তিনটি উপায় রয়েছে:
* ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে নামখানা লোকাল ধরুন (সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা)। নামখানা স্টেশন থেকে টোটো বা অটোতে করে হাতানিয়া-দোহানিয়া ব্রিজ পেরিয়ে বকখালি যাওয়ার বাস বা ম্যাজিক ভ্যান পাবেন। সেখান থেকে টোটো করে হেনরিজ আইল্যান্ড যাওয়া যায়।
* বাসে: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) থেকে সরাসরি বকখালি যাওয়ার সরকারি ও বেসরকারি বাস পাওয়া যায়। বকখালি থেকে হেনরিজ আইল্যান্ডের দূরত্ব মাত্র ৫ কিমি, যা টোটোতে সহজেই যাওয়া যায়।
* গাড়িতে: নিজের গাড়ি বা ভাড়া করা গাড়িতে ডায়মন্ড হারবার রোড হয়ে সরাসরি নামখানা পৌঁছানো যায়। ব্রিজ হওয়ার ফলে এখন গাড়ি নিয়ে সরাসরি আইল্যান্ড পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব।
