ডায়মন্ড হারবার
কলকাতা থেকে খুব কাছেই গঙ্গার পাড়ে ছোটখাটো ছুটির জন্য ডায়মন্ড হারবার এক চমৎকার গন্তব্য। রূপনারায়ণ এবং হুগলি নদীর মিলনস্থলের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য এখানে বহু পর্যটক ভিড় করেন।
১. দর্শনীয় স্থানসমূহ
ডায়মন্ড হারবারে দেখার মতো মূল আকর্ষণ হলো গঙ্গার বিশালতা। তবে আশেপাশে আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখা যায়:
* পুরানো কেল্লা (Chingrikhali Fort): গঙ্গার ধারেই অবস্থিত একটি প্রাচীন পর্তুগিজ কেল্লার ধ্বংসাবশেষ। ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ থাকলে এটি আপনার ভালো লাগবে।
* নদী ভ্রমণ: ছোট নৌকা বা লঞ্চ ভাড়া করে গঙ্গার বুকে ঘুরে বেড়ানো এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সূর্যাস্তের সময় এটি সবথেকে সুন্দর লাগে।
* নুরপুর ও রায়চক: ডায়মন্ড হারবার থেকে খুব কাছেই এই সুন্দর রিসোর্ট এলাকাগুলো। এখান থেকে গঙ্গার ওপারের হলদিয়া দেখা যায়।
* লাইটহাউস: নদীর ধারে একটি পুরনো লাইটহাউস আছে যা এলাকার ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত।
২. কোথায় থাকবেন?
এখানে থাকার জন্য বিভিন্ন বাজেটের হোটেল ও লজ রয়েছে:
* Sagarika Tourist Lodge: এটি পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) নিজস্ব লজ। নদীর একদম ধারেই এর অবস্থান এবং এখান থেকে ভিউ সবথেকে ভালো পাওয়া যায়।
* এছাড়া ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রচুর রিসোর্ট ও হোটেল আছে যা অনলাইনে বুক করা সম্ভব।
৩. খাওয়ার ব্যবস্থা
নদীর টাটকা মাছ এখানকার প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে ইলিশের মরসুমে এলে দুর্দান্ত স্বাদ পাওয়া যায়। স্থানীয় হোটেলগুলোতে সাধারণ বাঙালি থালি থেকে শুরু করে চাইনিজ বা তন্দুরি—সবই পাওয়া যায়।
৪. ভ্রমণের সেরা সময়
* শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): ভ্রমণের জন্য সবথেকে আরামদায়ক সময়। পিকনিকের আমেজ থাকে চারদিকে।
* বর্ষাকাল: যারা গঙ্গার বিশাল রূপ এবং উত্তাল ঢেউ দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য বর্ষা আদর্শ। তবে এই সময় নদী ভ্রমণে সতর্কতা প্রয়োজন।
ছোট টিপস: আপনি যদি ভিড় এড়াতে চান, তবে সপ্তাহান্তের ছুটির দিন (শনিবার-রবিবার) বাদে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।
কিভাবে এখানে আসবেন
কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার যাওয়া অত্যন্ত সহজ।
* ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকাল ধরে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারেন। সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা।
* বাসে: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) থেকে এসি/নন-এসি বহু বাস নিয়মিত ছাড়ে।
* গাড়ি: নিজের গাড়িতে গেলে মা ফ্লাইওভার বা জোকা হয়ে সরাসরি ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে প্রায় ৫০ কিমি রাস্তা পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো যা
য়।
