হ্যামিলটন বাংলো

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার গোসাবায় অবস্থিত হ্যামিলটন বাংলো (Hamilton Bungalow) সুন্দরবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অন্যতম নির্দশন। স্কটিশ ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের স্মৃতিবিজড়িত এই বাংলোটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

১. বাংলোর ইতিহাস ও বিশেষত্ব

 * প্রতিষ্ঠাতা: স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টন ১৯০৩ সালে সুন্দরবনের গোসাবা অঞ্চলে সমবায় আন্দোলন এবং গ্রামীণ উন্নয়নের লক্ষে এই বাংলোটি নির্মাণ করেন।

 * স্থাপত্য: বাংলোটি কাঠের স্তম্ভের ওপর নির্মিত একটি চমৎকার ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের উদাহরণ। এর প্রশস্ত বারান্দা এবং সুন্দর বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে।

 * রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি: ১৯৩২ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাংলোয় এসে স্যার হ্যামিল্টনের সাথে দেখা করেন এবং কয়েক দিন অবস্থান করেন। বাংলোর পাশেই রবীন্দ্রনাথের থাকার জন্য একটি আলাদা বাংলো (Beacon Bungalow) রয়েছে।

২. ভ্রমণের সেরা সময়

 * অক্টোবর থেকে মার্চ: এটি সুন্দরবন ভ্রমণের আদর্শ সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকে।

 * বর্ষাকাল: জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টির কারণে নদী ভ্রমণ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে প্রকৃতির সবুজ রূপ উপভোগ করা যায়।

৩. ভ্রমণ পরিকল্পনা (Itinerary)

হ্যামিলটন বাংলো সাধারণত সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুরের প্রথম দিনেই অন্তর্ভুক্ত থাকে।

 * সময়: বাংলোটি এবং এর চারপাশ ঘুরে দেখতে ১ ঘণ্টা সময় যথেষ্ট।

 * অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: এর কাছেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথের বাংলো (Beacon Bungalow), গোসাবা বাজার এবং স্যার হ্যামিল্টনের তৈরি সমবায় ব্যাংক ও চালের কল।

৪. জরুরি টিপস

 * সময়সূচী: বাংলোটি সাধারণত সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।

 * পরিবেশ রক্ষা: বাংলো চত্বরে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না। এটি একটি হেরিটেজ সাইট, তাই এর গাম্ভীর্য বজায় রাখুন।

 * গাইড: আপনি চাইলে স্থানীয় গাইড নিতে পারেন, যারা আপনাকে এখানকার ইতিহাস বিস্তারিত বর্ণনা করবেন।

# বিশেষ দ্রষ্টব্য: হ্যামিলটন বাংলো দেখার জন্য সাধারণত আলাদা কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না (শর্তসাপেক্ষ), তবে সুন্দরবনের কোর এরিয়ায় (ব্যাঘ্র প্রকল্প) প্রবেশের জন্য বন বিভাগের অনুমতি ও ফি লাগে।

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে হ্যামিলটন বাংলো যাওয়া বেশ সহজ:

 * ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিংগামী (Canning) লোকালে উঠে ক্যানিং স্টেশনে নামতে হবে। সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

 * সড়কপথে (ক্যানিং থেকে গদখালি): ক্যানিং স্টেশন থেকে অটো বা ম্যাজিক ভ্যানে করে আপনাকে ‘গদখালি ফেরি ঘাট’ পৌঁছাতে হবে (দূরত্ব প্রায় ২৮ কিমি)।

 * জলপথে: গদখালি ফেরি ঘাট থেকে নৌকায় বা ভুটভুটিতে নদী পার হয়ে গোসাবা বাজারে নামতে হবে। ঘাট থেকে সামান্য পথ হাঁটলেই বা টোটোতে করে আপনি হ্যামিলটন বাংলো পৌঁছাতে পারবেন।

Google Maps

Scroll to Top