ঘাঘরবুড়ি চণ্ডী মন্দির
ঘাঘরবুড়ি চণ্ডী মন্দির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কালীপাহাড়ি বাইপাস রোডের কাছে নুনিয়া নদীর তীরে অবস্থিত একটি অতি প্রাচীন ও জাগ্রত মন্দির। এটি রাঢ় বাংলার অন্যতম লোকদেবী, মা চণ্ডীরই একটি রূপ, যিনি ঘাঘরবুড়ি নামে পরিচিত।
মন্দির সম্পর্কে কিছু তথ্য:
* দেবী ও পূজা: মন্দিরে দেবীর কোনো মূর্তি নেই, পূজা করা হয় তিনটি ডিম্বাকৃতি শিলাখণ্ডকে, যা দেবী চণ্ডী, অন্নপূর্ণা ও মহাদেবের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। শিলাখণ্ডগুলিকে রৌপ্য অলঙ্কার (ত্রিনয়ন, নাসিকা, মুকুট ইত্যাদি) দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
* ইতিহাস ও লোককথা: জনশ্রুতি আছে যে ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে মায়ের আদেশে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন যে ঘাঘর শব্দের অর্থ ‘নদী’ এবং নুনিয়া নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত বলে দেবীর নাম হয়েছে
‘ঘাঘরবুড়ি’। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ‘ঘাঘর’ শব্দের অর্থ হল ঝাঁজ বাদ্য ও ঘুঙুর, যা অতীতে দেবীর পূজায় ব্যবহৃত হত।
* তাৎপর্য: দেবী ঘাঘরবুড়িকে বিপদনাশিনী ও মনোস্কামনা পূরণের দেবী হিসেবে মানা হয়। এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, রাঢ় বাংলার সংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
* নিত্য পূজা ও বিশেষ উৎসব: প্রতিদিন মায়ের নিত্য পূজা হয়। বিশেষত শনি ও মঙ্গলবার প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। প্রতি বছর ১লা মাঘ (জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি) মন্দির প্রাঙ্গণে মায়ের বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে এবং বহু ছাগ বলি হয়। রাস পূর্ণিমাতেও হোম-যজ্ঞের আয়োজন করা হয়।
ভ্রমণ নির্দেশিকা:
* অবস্থান: আসানসোল শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে, কালীপাহাড়ি বাইপাস সংলগ্ন নুনিয়া নদীর তীরে।
* সময়সূচী (আনুমানিক): সাধারণত মন্দিরটি সকাল ৭:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে পূজার সময় অনুসারে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
* আশেপাশের অন্যান্য স্থান: ঘাঘরবুড়ি মন্দির দর্শনের পাশাপাশি আসানসোলের অন্যান্য স্থান যেমন কল্যাণেশ্বরী মন্দির, শতাব্দী পার্ক, নেহেরু পার্ক ইত্যাদি ঘুরে দেখা যেতে পারে।
* থাকার ব্যবস্থা: রাত্রিযাপনের জন্য আসানসোল শহরে বিভিন্ন মানের হোটেল পাওয়া যায়।
আপনি যদি শান্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রাচীন লোকবিশ্বাসের অভিজ্ঞতা লাভ করতে চান, তবে ঘাঘরবুড়ি চণ্ডী মন্দির ভ্রমণ একটি দারুণ অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
* ট্রেনে: নিকটতম প্রধান রেল স্টেশন হল আসানসোল জংশন। স্টেশন থেকে অটো বা ট্যাক্সি করে সরাসরি মন্দিরে পৌঁছানো যায়। কালিপাহাড়ি রেলওয়ে স্টেশনও কাছে।
* সড়কপথে: মন্দিরটি জাতীয় সড়ক (বাইপাস) সংলগ্ন হওয়ায় সড়কপথে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ। কলকাতা থেকে বাসে বা গাড়িতে এলে সরাসরি পৌঁছানো যায়।
* আকাশপথে: নিকটতম বিমানবন্দর হল দুর্গাপুর (অন্ডাল) বিমানবন্দর, যা মন্দির থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
