পূর্ব বর্ধমান জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পূর্ব বর্ধমান জেলা হল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এটি ২০১৭ সালের ৭ই এপ্রিল বর্ধমান জেলাকে বিভক্ত করে গঠিত হয়।

জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও ইতিহাস

ভৌগোলিক সীমানা: উত্তরে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলা, পূর্বে নদীয়া জেলা, দক্ষিণে হুগলি ও বাঁকুড়া জেলা এবং পশ্চিমে পশ্চিম বর্ধমান জেলা দ্বারা পরিবেষ্টিত।

ভূ-প্রকৃতি: এই জেলার ভূমিভাগ মূলত সমতল এবং এটি পলল সমভূমি অঞ্চলের অংশ।

নামের উৎপত্তি: “বর্ধমান” নামটি সংস্কৃত শব্দ ‘বর্ধমান’ (Vardhamana) থেকে এসেছে, যার অর্থ “বর্ধনশীল বা সমৃদ্ধ”। জৈন ধর্মমতে ২৪তম তীর্থঙ্কর মহাবীর এই অঞ্চলে কিছু সময় অতিবাহিত করেছিলেন এবং তাঁর নামানুসারেও এই নাম হতে পারে বলে মনে করা হয়।

পূর্ব বর্ধমান জেলার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

বিজয় তোরণ (কার্জন গেট): ১৯০৩ সালে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহাতাবের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে এই বিশাল তোরণটি তৈরি করান। ১৯০৪ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের সফরের পর এর নাম হয় “কার্জন গেট”, যা স্বাধীনতার পরে “বিজয় তোরণ” নামে পরিচিত। এটি জিটি রোড এবং বিসি রোডের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

সর্বমঙ্গলা মন্দির: ১৭০২ সালে মহারাজা কীর্তিচাঁদ কর্তৃক নির্মিত, এই মন্দিরটি বর্ধমানের ডিএন সরকার রোডে অবস্থিত। এটি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নবরত্ন মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এবং মাতা সর্বমঙ্গলার মূর্তিটি প্রায় ১০০০ বছর পুরনো বলে বিশ্বাস করা হয়।

চুপি চর: পূর্বস্থলী অক্সবো হ্রদের কাছে কালনার সন্নিকটে অবস্থিত এই স্থানটি একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পাখিদের আবাসস্থল। শীতকালে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখির আনাগোনায় এটি মুখরিত থাকে।

১০৮ শিব মন্দির (নবাবহাট): নবাবহাট বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত এই মন্দির চত্বরে মোট ১০৯টি শিব মন্দির একটি আয়তাকার বিন্যাসে সজ্জিত রয়েছে। ১৭৮৮ সালে মহারাজা তিলকচাঁদের স্ত্রী মহারানী বিষ্ণু কুমারী এটি নির্মাণ করান।

শের আফগানের সমাধি: এটি রাজবাড়ির কাছে পীর বাহারামের সমাধির পাশে অবস্থিত। ১৬১০ সালে বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এক যুদ্ধে নিহত শের আফগান খান এবং কুতুবউদ্দিন খানের সমাধি এখানে রয়েছে।

কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির: বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত এই মন্দিরটি নবরত্ন শৈলীর, অর্থাৎ এটির নয়টি চূড়া রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দামোদর নদীর পাশে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ কালী মূর্তিটি পাওয়া গিয়েছিল।

অট্টহাস সতী পীঠ: অট্টহাস সতী পীঠ পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামের দক্ষিণডিহি গ্রামে ঈশানী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি ৫১ সতী পীঠের মধ্যে অন্যতম, যেখানে দেবী সতীর ‘অধঃওষ্ঠ’ বা নিচের ঠোঁট পতিত হয়েছিল এবং দেবী চামুণ্ডা রূপে পূজিতা হন।

কালনা রাজবাড়ি: কালনা রাজবাড়ি হলো পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার অম্বিকা কালনায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এটি বর্ধমানের মহারাজাদের তৈরি বহু প্রাচীন ও মনোরম টেরাকোটার কাজ সমৃদ্ধ মন্দিরের সমাহার, যার মধ্যে ১০৮ শিব মন্দির (নব কৈলাস) এবং লালজি মন্দির প্রধান।

Scroll to Top