কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির
ওঁ কঙ্কালেশ্বরীং চ বিদ্মহে, কঙ্কলমূলয় ধীমহি। তন্নো চামুণ্ডা: প্রচোদয়াৎ।।
বর্ধমানের কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত কালী মন্দির। এটি একটি অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য।
🗺️ অবস্থান
* ঠিকানা: কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ।
🏛️ মন্দিরের স্থাপত্য ও ইতিহাস
* মন্দির: এটি একটি নবরত্ন (নয় চূড়া বিশিষ্ট) শৈলীর মন্দির। মন্দিরটি প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো বলে মনে করা হয়।
* দেবী মূর্তি: এই মন্দিরের দেবী মূর্তিটিই প্রধান আকর্ষণ।
* বিগ্রহের রূপ: দেবী এখানে কঙ্কালরূপিণী বা চামুণ্ডা রূপে পূজিতা হন। মূর্তিটি প্রায় ৬ ফুট লম্বা ও ৩ ফুট চওড়া।
* বিশেষত্ব: মূর্তিটি কালো ব্যাসল্ট বা কষ্টিপাথরে খোদিত। দেবীর কঙ্কালসার রূপে মানবদেহের শিরা-উপশিরা এবং ধমনীগুলি নিখুঁতভাবে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গলায় রয়েছে নরমুণ্ডমালা এবং তিনি অষ্টভূজা। পদতলে শায়িত মহাদেবের মূর্তি রয়েছে।
* উৎপত্তি: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২০ বঙ্গাব্দ) দামোদর নদের বন্যার সময় নদীগর্ভ থেকে এই পাথরের দেবী মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এটি সম্ভবত পাল যুগের বা তার চেয়েও প্রাচীন (অনেকের মতে ২০০০ বছরের বেশি)। বর্ধমানের মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাবের উদ্যোগে কাঞ্চননগরের নবরত্ন মন্দিরে এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
🔔 পূজার সময়সূচী ও অন্যান্য সুবিধা
* দর্শনের সময়: সাধারণত সকাল ৯:০০টা থেকে রাত ৮:০০টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে (সময় পরিবর্তন হতে পারে, যাওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো)।
* অন্নভোগ: মন্দিরে ১০ টাকার বিনিময়ে অন্নভোগের ব্যবস্থা থাকে বলে জানা যায় (ভাত, ডাল, সবজি ইত্যাদি)। এর জন্য কুপন সংগ্রহ করতে হয়।
* সন্ধ্যা আরতি: সন্ধ্যার সময় মন্দিরের সংলগ্ন পুকুরের কাছে সুন্দর আরতির আয়োজন করা হয়। পুকুরে মাছের ব্যবস্থাও রয়েছে।
* প্রবেশ মূল্য ও ছবি তোলা: মন্দিরে প্রবেশের জন্য কোনো ফি লাগে না। সাধারণত ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে, তবে গর্ভগৃহ বা পূজার স্থানে ছবি তোলার আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নেওয়া ভালো।
* পার্ক: মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বিনোদন পার্ক এবং পরিবেশ সুন্দর করার জন্য সংস্কার করা হয়েছে।
📝 ভ্রমণ টিপস
* পোশাক: মন্দিরে প্রবেশের আগে শালীন ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়।
* জুতো: মন্দিরের উঠোনে প্রবেশের আগে জুতো খুলে রাখবেন।
* বিশেষ দিন: কালীপূজা বা কার্তিক মাসের অমাবস্যার সময় এখানে ভক্তদের বিশেষ ভিড় হয়। এই সময় গেলে ভিড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এই মন্দির তার স্থাপত্যের চেয়েও দেবীর কঙ্কালরূপিণী চামুণ্ডা মূর্তির জন্য বিখ্যাত। আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে এটি একটি বিশেষ স্থান।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
* নিকটতম রেল স্টেশন: বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশন (Bardhaman Railway Station)।
* স্টেশন থেকে দূরত্ব: স্টেশন থেকে মন্দিরটি প্রায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে।
* বর্ধমান স্টেশন থেকে টোটো বা অটো রিজার্ভ করে সহজেই কাঞ্চননগর কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দিরে পৌঁছানো যায়।
