কলকাতা জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
কলকাতা জেলা পশ্চিমবঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনন্য জেলা।
🏛️ পরিচিতি
* রাজধানী ও সদর: এই জেলার সদর দপ্তর এবং রাজধানী শহর হলো কলকাতা (Kolkata), যা একই সাথে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী।
* স্বভাব: এটি একটি সম্পূর্ণ নগর জেলা (Urban District)। অর্থাৎ, এই জেলার ভেতরে কোনো গ্রামীণ এলাকা নেই। এটি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্রতম জেলা এবং সর্বাধিক জনঘনত্বপূর্ণ জেলা।
* আয়তন: প্রায় ১৮৫ বর্গ কিলোমিটার।
* প্রশাসনিক বিশেষত্ব: অন্যান্য জেলার মতো এখানে কোনো মহকুমা বা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক (C.D. Block) নেই।
🗺️ অবস্থান
* কলকাতা জেলা নিম্ন গাঙ্গেয় উপত্যকায়, হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত।
* এটি প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
* সীমানা:
* উত্তর ও পূর্ব: উত্তর ২৪ পরগণা জেলা
* দক্ষিণ: দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা
* পশ্চিম: হুগলি নদী দ্বারা হাওড়া ও হুগলি জেলা থেকে বিভক্ত।
🌟 গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য
* ইতিহাস: এটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী (১৯১১ সাল পর্যন্ত)। তাই এই শহরকে ‘প্রাসাদ নগরী’ (City of Palaces) বলা হতো।
* অর্থনীতি: এটি পূর্ব ভারতের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র। এই জেলার অর্থনীতি মূলত শিল্প, বাণিজ্য ও পরিষেবা (Service Sector)-এর উপর নির্ভরশীল।
* সংস্কৃতি ও ভাষা: ‘ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। বাংলা এখানকার প্রধান ভাষা হলেও এটি একটি বহুভাষিক শহর। হিন্দি, উর্দু, ওড়িয়া, গুজরাটি, পাঞ্জাবি ইত্যাদি ভাষার ব্যবহারকারী মানুষও এখানে বসবাস করেন।
* পরিবহন: কলকাতা বন্দর হলো ভারতের প্রাচীনতম সচল বন্দর। উন্নত সড়কপথ, রেলপথ, মেট্রো রেল এবং আকাশপথের (কলকাতা বিমানবন্দর) সুব্যবস্থা এটিকে একটি উন্নত যোগাযোগ কেন্দ্র করে তুলেছে।
কলকাতা জেলার কয়েকটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
* ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল (Victoria Memorial Hall):
* বিবরণ: এটি একটি বিশাল শ্বেতপাথরের প্রাসাদ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে নির্মিত হয়েছিল।
* বিশেষত্ব: Indo-Saracenic স্থাপত্যশৈলীর একটি চমৎকার উদাহরণ। এর ভেতরে একটি জাদুঘর এবং বাইরে মনোরম বাগান রয়েছে। রাতে আলোয় আলোকিত স্মৃতিসৌধের দৃশ্য মন মুগ্ধ করে।
* হাওড়া ব্রিজ (Howrah Bridge/Rabindra Setu):
* বিবরণ: হুগলি নদীর উপর অবস্থিত এই ক্যান্টিলিভার সেতুটি কলকাতার অন্যতম প্রতীক। এটি ভারতের অন্যতম ব্যস্ততম সেতু।
* বিশেষত্ব: এটি বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম ক্যান্টিলিভার সেতু। সূর্যাস্ত বা রাতের বেলায় সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা খুবই সুন্দর।
* ভারতীয় জাদুঘর (Indian Museum):
* বিবরণ: ১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, এটি ভারতের বৃহত্তম এবং বিশ্বের নবম প্রাচীনতম জাদুঘর।
* বিশেষত্ব: এখানে মিশরীয় মমি, প্রাচীন জিনিসপত্র, জীবাশ্ম, কঙ্কাল, অস্ত্রশস্ত্র এবং মুঘল চিত্রকলার বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।
* দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির (Dakshineswar Kali Temple):
* বিবরণ: হুগলি নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত এই বিখ্যাত কালী মন্দিরটি রানী রাসমণি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
* বিশেষত্ব: এটি দেবী ভবতারিণীকে (কালীর রূপ) উৎসর্গীকৃত এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
* কালীঘাট মন্দির (Kalighat Temple):
* বিবরণ: ৫১টি সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম এবং এটি কলকাতার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় স্থান।
* বিশেষত্ব: এখানে দেবী কালীর (দেবী সতীর পায়ের আঙুল পড়েছিল বলে বিশ্বাস) পূজা করা হয়। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
* জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি (Jorasanko Thakurbari):
* বিবরণ: এটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক বাসস্থান।
* বিশেষত্ব: বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর, যেখানে ঠাকুর পরিবারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ছবি ও কবির জীবন ও কর্মের নানা দিক প্রদর্শিত হয়।
* প্রিন্সেপ ঘাট (Prinsep Ghat):
* বিবরণ: হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত একটি মনোরম ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর ঘাট।
* বিশেষত্ব: নদীর দৃশ্য উপভোগ করা, সান্ধ্যকালীন ভ্রমণ এবং দ্বিতীয় হুগলি সেতুর সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য এটি খুবই জনপ্রিয়।
* সায়েন্স সিটি (Science City):
* বিবরণ: এটি ভারতের বৃহত্তম বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি এবং এটি বিজ্ঞানকে মজার ছলে শেখার একটি কেন্দ্র।
* বিশেষত্ব: এখানে মহাকাশ ও সমুদ্র বিজ্ঞান সংক্রান্ত হল, ডাইনোসর পার্ক, অ্যাকোয়ারিয়াম এবং একটি বৃহৎ কনভেনশন সেন্টার রয়েছে।
* আলিপুর চিড়িয়াখানা (Alipore Zoological Garden):
* বিবরণ: এটি ভারতের প্রাচীনতম চিড়িয়াখানাগুলির মধ্যে অন্যতম।
* বিশেষত্ব: বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ও পাখির সমারোহ এবং এটি বিনোদনের একটি জনপ্রিয় স্থান।
