মা মেলাই চণ্ডী মন্দির
হাওড়া জেলার অন্যতম প্রাচীন এবং জাগ্রত তীর্থস্থান হলো **আমতা মেলাই চণ্ডী মন্দির**। পর্যটন এবং ধর্মীয় গুরুত্বের দিক থেকে এই মন্দিরটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
১. মন্দিরের ইতিহাস ও গুরুত্ব
আমতার মেলাই চণ্ডী মন্দির পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয় (অনেকের মতে এটি উপ-পীঠ)। দেবী চণ্ডী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস।
*কিংবদন্তি: শোনা যায়, আদি শঙ্করলিপি অনুযায়ী এখানে দেবীর সতীর বাম পায়ের গুালফ (Ankle) পড়েছিল।
*স্থাপত্য: মন্দিরটি মূলত আটচালা শৈলীর আদলে তৈরি। মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবী চণ্ডীর পাথরের মূর্তি রয়েছে।
২. প্রধান আকর্ষণ
*শান্ত পরিবেশ: দামোদর নদের তীরে অবস্থিত এই মন্দির প্রাঙ্গণটি বেশ শান্ত এবং মনোরম।
*মেলাই চণ্ডীর মেলা: প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় এখানে বিশাল মেলা বসে। এই সময় পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাজ্য থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে।
* টেরাকোটার কাজ: মন্দিরের গায়ে পুরনো দিনের কিছু সূক্ষ্ম কারুকার্য ও টেরাকোটার ছাপ লক্ষ্য করা যায়।
৩. ভ্রমণের সেরা সময়
বৈশাখী পূর্ণিমা: আপনি যদি মেলার আনন্দ নিতে চান, তবে বৈশাখী পূর্ণিমার সময় যাওয়া সেরা।
শীতকাল: পর্যটনের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস সবচেয়ে আরামদায়ক।
৪. ভ্রমণ টিপস
কাছাকাছি ঘোরার জায়গা: আমতা থেকে কাছেই জয়পুর বন (Joypur Forest) বা গড়চুমুক পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে আসা যায়।
খাওয়াদাওয়া: মন্দির চত্বরে প্রসাদ খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া আমতা বাজারে স্থানীয় মিষ্টি ও জলখাবারের অনেক পুরনো দোকান আছে।
ফটোগ্রাফি: মন্দিরের বাইরের চত্বর এবং দামোদর নদের পাড়ে সুন্দর ছবি তোলা সম্ভব।
**একটি ছোট সতর্কতা:** দুপুরের দিকে (১২:৩০ টা থেকে ৩:৩০ টা পর্যন্ত) অনেক সময় মন্দিরের গর্ভগৃহ বন্ধ থাকে, তাই পরিকল্পনা করার সময় হাতে সময় নিয়ে বের হওয়া ভালো।
কিভাবে এখানে আসবেন
কলকাতা বা হাওড়া থেকে আমতা যাওয়া খুবই সহজ:
* ট্রেনে: হাওড়া স্টেশন থেকে **হাওড়া-আমতা লোকাল** ধরুন। আমতা স্টেশনে নামার পর অটো বা টোটো করে সহজেই মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া যায়। (ট্রেনে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট)।
* বাসে: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) বা সাঁতরাগাছি থেকে আমতা যাওয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
* গাড়িতে: কলকাতা থেকে ডোমজুড়-রানিহাটি হয়ে আমতা পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টার মতো।
