অট্টহাস সতী পীঠ মন্দির

পশ্চিমবঙ্গের ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম অট্টহাস সতীপীঠ। এটি পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার নিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ডিহি গ্রামে অবস্থিত। ঈশানী নদীর (স্থানীয়ভাবে কন্দর নদী নামে পরিচিত) তীরে ঘন জঙ্গল এবং নিরিবিলি পরিবেশে মন্দিরটি এক আধ্যাত্মিক এবং শান্তিময় স্থান।

🏛️ পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

পীঠের কারণ: প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এখানে দেবী সতীর অধঃওষ্ঠ (নিচের ঠোঁট) পতিত হয়েছিল। ‘অট্টহাস’ শব্দটি সংস্কৃত ‘অট্ট’ (উচ্চ) এবং ‘হাস’ (হাসি) থেকে এসেছে, যা ঠোঁট বা হাসির সঙ্গে সম্পর্কিত।

দেবী ও ভৈরব: এই পীঠে দেবী অধরেশ্বরী বা ফুল্লরা নামে পূজিতা হন এবং ভৈরব হলেন বিশ্বেশ।

বিগ্রহ: এখানে দেবীর কোনো মানবসদৃশ মূর্তি নেই। একটি ১৫ ফুট (মতান্তরে ১৮ ফুট) দীর্ঘ শিলা বা প্রস্তরখণ্ড দেবীর নিচের ঠোঁটের প্রতীক হিসাবে পূজিত হয়। পূর্বে এখানে দন্তুরা চামুণ্ডা মূর্তি পূজা হতো, যা বর্তমানে মহিষমর্দিনী রূপে পূজিত।

আকর্ষণ: মন্দিরের মূল অংশ ছাড়াও নাট মন্দির, কালীমন্দির, এবং পঞ্চমুণ্ডির আসন রয়েছে। মন্দিরের কাছে একটি বৃত্তাকার পুকুর আছে, যা নিয়ে লোককথা আছে যে শ্রী রামচন্দ্র দেবী দুর্গার পূজার জন্য এই পুকুর থেকেই ১০৮টি নীলপদ্ম সংগ্রহ করেছিলেন।

🌳 প্রাকৃতিক পরিবেশ

অট্টহাস মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক শোভা ও নিরিবিলি পরিবেশ।

জঙ্গল ও নদী: মন্দিরটি ঈশানী নদীর বাঁকে ঘন জঙ্গলে ঘেরা, যা শহুরে কোলাহল থেকে দূরে এক শান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বন্যপ্রাণী: এখানে বিভিন্ন রঙের প্রজাপতি, ফড়িং, নানা ধরনের পাখি, এবং ফলখেকো বাদুড়ের দেখা মেলে। শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) বিশেষত অনেক এশীয় শামুকখোল (Asian Open Bill Stork) পাখির সমাগম ঘটে।

রাতের পরিবেশ: রাতে পেঁচার ডাক এবং শেয়ালের ডাক এখানকার নির্জনতাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।

🏘️ থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

মন্দিরের আশেপাশে সেভাবে কোনো লোকালয় বা থাকার জায়গা নেই। তবে মন্দিরের ভেতরেই ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

থাকা: মন্দির কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় কিছু ব্যবস্থাপনায় থাকার ব্যবস্থা থাকতে পারে, যদিও আশেপাশে হোটেল বা লজের সুবিধা কম। কাটোয়া শহরে বা বোলপুরে ভালো থাকার জায়গা পাওয়া যেতে পারে।

📅 কখন যাবেন?

শ্রেষ্ঠ সময়: নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানকার আবহাওয়া মনোরম থাকে। এই সময়েই প্রাকৃতিক পরিবেশ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশেষ উৎসব: নবরাত্রি/দুর্গাপূজা এবং দোল উৎসবের সময় বিশেষ পূজা ও মেলা বসে, তখন ভক্তদের সমাগম অনেক বেশি হয়।

আপনি যদি শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির মাঝে একটি পবিত্র তীর্থস্থান ভ্রমণ করতে চান, তাহলে অট্টহাস সতীপীঠ আপনার জন্য আদর্শ।

Google Maps

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে অট্টহাস সতীপীঠের প্রধান প্রবেশদ্বার হলো কাটোয়া জংশন (Katwa Junction)।

সকালে হাওড়া/শিয়ালদহ থেকে কাটোয়াগামী ট্রেনে রওনা হয়ে কাটোয়া থেকে সরাসরি ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে মন্দিরে যাওয়া।

 * দূরত্ব: কাটোয়া জংশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ১৫-১৮ কিলোমিটার।

Scroll to Top