বেকন বাংলো

সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার গোসাবায় অবস্থিত বেকন বাংলো (Bacon Bungalow) একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটি মূলত স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের স্মৃতিবিজড়িত একটি বাংলো।

১. কেন বিখ্যাত?

এই বাংলোটি বিখ্যাত হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ১৯৩২ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের আমন্ত্রণে এখানে এসে অবস্থান করেছিলেন। হ্যামিল্টন সাহেবের তৈরি করা সমবায় আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল এই গোসাবা। বাংলোটি কাঠের তৈরি এবং এর স্থাপত্যশৈলী দেখার মতো।

২. কী কী দেখবেন?

 * মূল বাংলো: কাঠের তৈরি সুন্দর কারুকার্যময় বাংলো। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত কিছু আসবাবপত্র এবং ছবি সংরক্ষিত আছে।

 * মূর্তি: বাংলো প্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের মূর্তি রয়েছে।

beacon Bungalow gosaba
beacon Bungalow gosaba

 * প্রাকৃতিক পরিবেশ: 

i. নদীর মোহময় দৃশ্য

বাংলোটির অবস্থান দত্ত এবং বিদ্যাধরী নদীর একেবারে তীরে। বাংলোর বারান্দায় বসলে বা প্রাঙ্গণে দাঁড়ালে নদীর বিশাল জলরাশি চোখে পড়ে। বিশেষ করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় নদীর ওপর রঙের খেলা এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। নদীর বুক দিয়ে অলসভাবে বয়ে চলা পাল তোলা বা ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো দেখতে খুব সুন্দর লাগে।

ii. শান্ত ও নির্জন পরিবেশ

শহরের কোলাহল থেকে দূরে গোসাবার এই অংশটি অত্যন্ত শান্ত। বাংলোর চারপাশে রয়েছে প্রচুর বড় বড় গাছপালা এবং সাজানো বাগান, যা এলাকাটিকে স্নিগ্ধ ও শীতল রাখে। আপনি যদি পাখির ডাক শুনতে ভালোবাসেন, তবে ভোরের দিকে এখানে এক অদ্ভুত শান্তিময় অভিজ্ঞতা পাবেন।

iii. গ্রামীণ বাংলার ছোঁয়া

বাংলোর আশেপাশের এলাকাটি সুন্দরবনের সাধারণ জনজীবনের প্রতিচ্ছবি। নদীর পাড়ে ম্যানগ্রোভ গাছের সারি (যেমন সুন্দরী, গরান, হেঁতাল) এবং কাদাভরা চরে ছোট ছোট লাল কাঁকড়াদের আনাগোনা সুন্দরবনের প্রকৃত রূপ তুলে ধরে। জোয়ার-ভাটায় নদীর রূপ পরিবর্তনও এখান থেকে বেশ উপভোগ্য।

beacon Bungalow gosaba

 * হ্যামিল্টন সাহেবের বাংলো: বেকন বাংলোর ঠিক পাশেই স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের নিজস্ব বাংলোটিও দেখতে পাবেন।

৩. প্রয়োজনীয় তথ্য (টিপস)

বিষয় তথ্য 

সময়কাল সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। 

প্রবেশ মূল্য 10 টাকা জন প্রতি 

সেরা সময় শীতকাল ভ্রমণের জন্য সবথেকে আরামদায়ক।

খাওয়া-দাওয়া গোসাবা বাজারে অনেক সাধারণ হোটেল আছে যেখানে মাছ-ভাতের ভালো থালি পাওয়া যায়। |

৪. আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

আপনি যদি হাতে সময় নিয়ে যান, তবে গোসাবা থেকে নৌকায় করে সুন্দরবনের অন্যান্য পয়েন্টগুলোও ঘুরে দেখতে পারেন:

 * পাখিরালয়

 * সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার

 * সুধন্যখালি

মনে রাখবেন: এটি একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান, তাই বাংলোর ভেতরে শান্ত থাকা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

 

beacon Bungalow gosaba
beacon Bungalow gosaba

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে বেকন বাংলো যাওয়ার সহজ উপায় হলো:

 * ট্রেনে: শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেনে ক্যানিং (Canning) স্টেশনে নামতে হবে (সময় লাগে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট)।

 * সড়কপথে ক্যানিং থেকে গদখালি: ক্যানিং থেকে অটো বা ম্যাজিক গাড়িতে করে গদখালি (Gadkhali) খেয়াঘাটে পৌঁছাতে হবে।

 * নৌকা/ভটভটি: গদখালি ঘাট থেকে নদী পার হয়ে ওপাড়ে গেলেই গোসাবা বাজার। বাজার থেকে সামান্য দূরেই এই বাংলোটি অবস্থিত। আপনি পায়ে হেঁটে বা ভ্যানে করে সেখানে যেতে পারেন।

সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels

Mob: +91 9832411997

Google Maps

Scroll to Top