ভগবতপুর কুমির প্রকল্প

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন এলাকার ভগবতপুর কুমির প্রকল্প (Bhagatpur Crocodile Project) প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ গন্তব্য। এটি মূলত নোনা জলের কুমিরের (Saltwater Crocodile) প্রজনন কেন্দ্র এবং সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ।

১. প্রকল্পের বিশেষত্ব

সপ্তমুখী নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান কুমির প্রজনন কেন্দ্র। এখানে কুমিরের ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়া থেকে শুরু করে তাদের বড় হওয়া পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেখাশোনা করা হয়। বড় হওয়ার পর কুমিরগুলোকে আবার সুন্দরবনের নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

২. কী কী দেখবেন?

 * কুমিরের বিভিন্ন পর্যায়: এখানে একেবারে ছোট বাচ্চা (Hatchling) থেকে শুরু করে বিশালাকার পূর্ণবয়স্ক কুমির দেখার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন হাউজে বা চৌবাচ্চায় এদের বয়সভিত্তিক আলাদা করে রাখা হয়।

 * অন্যান্য প্রাণী: কুমির ছাড়াও এখানে সুন্দরবনের কচ্ছপ (যেমন- বিরল প্রজাতির Batagur baska) এবং বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী পাখি দেখা যায়।

 * প্রাকৃতিক দৃশ্য: লঞ্চে করে যাওয়ার সময় দুই ধারের ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং সপ্তমুখী নদীর সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। ভাগ্য ভালো থাকলে নদীর পাড়ে হরিণ বা বুনো শুয়োরও দেখতে পারেন।

৩. ভ্রমণের সেরা সময়

 * সেরা সময়: সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস (শীতকাল)। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং কুমিরদের রোদ পোহাতে দেখা যায়।

 * এড়িয়ে চলুন: গ্রীষ্মের প্রবল গরম এবং বর্ষাকালে নদীর উত্তাল ঢেউয়ের কারণে ভ্রমণ কিছুটা কষ্টকর হতে পারে।

৪. ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

 * সময়: প্রকল্পটি সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

 * খাবার ও জল: এখানে থাকার জায়গা বা বড় রেস্তোরাঁ সীমিত, তাই সাথে জল ও শুকনো খাবার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

 * শান্তি বজায় রাখুন: কুমিরদের বিরক্ত করবেন না বা চৌবাচ্চার ভেতর কিছু ফেলবেন না।

 * পরিবেশ রক্ষা: প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না, কারণ এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা।

৫. খরচ (আনুমানিক)

 * প্রবেশ মূল্য: জনপ্রতি ১০-২০ টাকার মতো (সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে)।

 * লঞ্চ ভাড়া: গ্রুপে গেলে বা ব্যক্তিগত নৌকা ভাড়া করলে খরচ সেই অনুযায়ী ভাগ হবে। সাধারণত সারা দিনের জন্য নৌকা ভাড়া ৩০০০-৫০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

কিভাবে এখানে আসবেন

ভগবতপুর পৌঁছাতে হলে আপনাকে জলপথের ওপর নির্ভর করতে হবে।

 * কলকাতা থেকে: প্রথমে ট্রেনে শিয়ালদহ থেকে নামখানা বা লক্ষ্মীকান্তপুর যেতে হবে। এরপর বাস বা অটোতে নামখানা খেয়াঘাট।

 * জলপথ: নামখানা বা বকখালি থেকে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে করে সপ্তমুখী নদী পার হয়ে ভগবতপুর পৌঁছানো যায়। এছাড়া ক্যানিং বা সজনেখালি থেকেও নৌকায় আসা সম্ভব।

Google Maps

Scroll to Top