দেউলটি

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত দেউলটি বা সামতাবেড় বর্তমানে বাঙালির অন্যতম প্রধান একটি সাহিত্য-তীর্থ। হাওড়া জেলার রূপনারায়ণ নদের তীরে অবস্থিত এই শান্ত গ্রামটি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের শেষ জীবনের ১২ বছরের (১৯২৬-১৯৩৮) সাক্ষী।

১. দেউলটি ও সামতাবেড়: এক নজরে

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই গ্রামের নিভৃত পরিবেশে তাঁর অমর সব সৃষ্টি— যেমন ‘অভিষেক’, ‘বিপ্রদাস’ এবং ‘পথের দাবী’-র অনেকটা অংশ লিখেছিলেন। ১৯২৩ সালে তিনি এই জমিটি কেনেন এবং মাটির ঘরের ধাঁচে দোতলা একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করেন। বর্তমানে এই বাড়িটি একটি হেরিটেজ সাইট এবং জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন (সামতাবের) দেউলটি

২. প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ

 * শরৎচন্দ্র কুঠির: এটিই সেই বিখ্যাত দোতলা বাড়ি যেখানে শরৎচন্দ্র বাস করতেন। বাড়ির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত নান্দনিক। বাড়ির ভেতর তাঁর ব্যবহৃত পালঙ্ক, লেখার টেবিল, হুকো এবং চটি জুতো সংরক্ষিত আছে।

 * বাঁশ বাগান ও পুকুর: বাড়ির সামনেই রয়েছে সেই বিখ্যাত পুকুর এবং বাঁশ বাগান, যার বর্ণনা তাঁর বহু উপন্যাসে পাওয়া যায়। বাড়ির চারপাশের বাগানটি অত্যন্ত শান্ত।

 * রূপনারায়ণ নদ: সামতাবেড় থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ হাঁটলেই রূপনারায়ণ নদ। বিকেলে নদের পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এই নদের ভাঙন ও রূপ শরৎচন্দ্রের লেখায় বারবার ফিরে এসেছে।

 * রাধাগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম: গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা রূপ উপভোগ করতে সামতাবেড়ের অলিগলি ঘুরে দেখতে পারেন।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন (সামতাবের) দেউলটি

৩. কখন যাবেন?

বছরের যে কোনো সময় যাওয়া যায়, তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বিশেষ করে শরৎকালে রূপনারায়ণের সৌন্দর্য এবং পরিষ্কার আকাশ ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।

ভ্রমণ টিপস:

 * জাদুঘর সময়সূচী: সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে স্থানীয় ছুটির দিনগুলো খেয়াল রাখা ভালো।

 * খাবার: দেউলটি স্টেশনের আশেপাশে বা সামতাবেড়ে যাওয়ার পথে কিছু ভালো রিসোর্ট ও ধাবা আছে (যেমন— নিরিবিলি বা রূপনারায়ণ রিট্রিট), যেখানে দুপুরের খাবার সেরে নেওয়া যায়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবন (সামতাবের) দেউলটি

কিভাবে এখানে আসবেন

 * ট্রেনে: হাওড়া স্টেশন থেকে মেদিনীপুর, খড়গপুর বা পাশকুঁড়া লোকাল ট্রেনে চড়ে দেউলটি স্টেশনে নামতে হবে। সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। স্টেশন থেকে টোটো বা অটোতে করে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে সামতাবেড়ে অবস্থিত শরৎচন্দ্রের বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায়।

 * সড়কপথে: কলকাতা থেকে বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে মুম্বাই রোড (NH-16) ধরে আসতে হবে। কোলাঘাট আসার কিছুটা আগেই দেউলটি মোড় পড়বে। সেখান থেকে বাম দিকে ঘুরে সোজা সামতাবেড়।

Google Maps

Scroll to Top