দোবাঁকি ক্যাম্প
সুন্দরবনের দোবাঁকি ক্যাম্প (Dobanki Watch Tower & Camp) পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান। এটি মূলত একটি বাঘ সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং এখান থেকে বনের গভীরে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ মেলে।
নিচে আপনার ভ্রমণের জন্য একটি সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হলো:
১. দোবাঁকি ক্যাম্পের বিশেষ আকর্ষণ
দোবাঁকি ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার ক্যানোপি ওয়াক (Canopy Walk)।দোবাঁকি ক্যাম্পের ক্যানোপি ওয়াক পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এটি মূলত একটি ঘেরা পথ যা মাটি থেকে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এবং প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ।
বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ: এই উঁচুপথ দিয়ে হাঁটার সময় আপনি নিচের জঙ্গলে হরিণ, বুনো শুয়োর এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে পারেন। কপাল ভালো থাকলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দেখাও মিলতে পারে।
সুরক্ষা ব্যবস্থা: পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুরো পথটি শক্তিশালী নেট বা তারের
জালি দিয়ে ঘেরা থাকে, যাতে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং একই সাথে জঙ্গল ও প্রাণীদের খুব কাছ থেকে দেখা যায়।
ওয়াচ টাওয়ার: ক্যানোপি ওয়াক শেষ হয় একটি ওয়াচ টাওয়ারে, যেখান থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্যের এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। টাওয়ারের পাশেই একটি মিষ্টি জলের পুকুর আছে, যেখানে বন্যপ্রাণীরা জল খেতে আসে।
পরিবেশ: এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। শিশুদের নিয়ে ঘোরার জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
২. ভ্রমণের সময়সূচী ও নিয়মাবলী
* সময়: সজনেখালি থেকে দোবাঁকি পৌঁছাতে লঞ্চে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় লাগে। এটি সুন্দরবনের বেশ গভীর এলাকায় অবস্থিত।
* পারমিট: সজনেখালি রেঞ্জ অফিস থেকে বন দপ্তরের অনুমতি বা পারমিট নিতে হয়। আপনার ট্যুর অপারেটর সাধারণত এই ব্যবস্থা করে দেন।
* এন্ট্রি ফি: জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য এবং লঞ্চের জন্য আলাদা ফি দিতে হয় (ভারতীয় এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য হার আলাদা)।
৩. প্রয়োজনীয় টিপস
* শান্ত থাকুন: বন্যপ্রাণী দেখার জন্য নিস্তব্ধতা খুব জরুরি। চিৎকার করলে বা শব্দ করলে বাঘ বা হরিণ দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
* পোশাকের রঙ: বনের সাথে মিশে যায় এমন রঙের পোশাক (যেমন- জলপাই, খাকি বা হালকা বাদামী) পরা ভালো। উজ্জ্বল রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন।
* প্লাস্টিক বর্জন: সুন্দরবন একটি সংরক্ষিত এলাকা, তাই কোনোভাবেই প্লাস্টিক বা ময়লা জঙ্গলে ফেলবেন না।
* পরিচয়পত্র: সাথে অবশ্যই আধার কার্ড বা কোনো বৈধ পরিচয়পত্র রাখবেন, যা ফরেস্ট পারমিটের জন্য প্রয়োজন হবে।
৪. সেরা সময়
দোবাঁকি ভ্রমণের সেরা সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। এই সময় আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে এবং কুয়াশা কম থাকলে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ বেশি থাকে।
কিভাবে এখানে আসবেন
দোবাঁকি যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই জলপথ ব্যবহার করতে হবে। সাধারণত দুটি রুট জনপ্রিয়:
* সজনেখালি হয়ে: সোনাখালি বা গদখালি ঘাট থেকে লঞ্চে উঠে সজনেখালি ইকো-ট্যুরিজম কমপ্লেক্সে পারমিট নিয়ে দোবাঁকির দিকে রওনা হতে হয়।
* পাখিহালয়/দয়াপুর হয়ে: পর্যটকরা সাধারণত এসব এলাকায় রাত কাটান এবং পরদিন সকালে লঞ্চে করে দোবাঁকি যান।
সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels
Mob: +91 9832411997
