ইকোপার্ক

কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত ইকোপার্ক (প্রকৃতি তীর্থ) বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম আরবান পার্ক এবং পর্যটকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। ৪৮০ একর জমি এবং ১০৪ একর জলাশয় নিয়ে গঠিত এই পার্কটি একদিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ।

নিচে ইকোপার্ক ভ্রমণের একটি সম্পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হলো:

📍 সাধারণ তথ্য (General Information)

 * অবস্থান: মেজর আর্টেরিয়াল রোড (Major Arterial Road), অ্যাকশন এরিয়া II, নিউটাউন, কলকাতা।

 * সময়সূচী (ঋতুভেদে পরিবর্তন হতে পারে):

   * মঙ্গলবার থেকে শনিবার: দুপুর ১২:৩০ – রাত ৮:৩০

   * রবিবার ও ছুটির দিন: দুপুর ১২:০০ – রাত ৮:৩০

   * সোমবার: পার্ক বন্ধ থাকে।

 * প্রবেশ মূল্য: জনপ্রতি ৩০ টাকা (ভেতরের রাইড ও বিশেষ কিছু জোনের জন্য আলাদা টিকিট কাটতে হয়)। ৩ বছরের নিচে শিশুদের টিকিট লাগে না।

 * টিকিট কাউন্টার: গেট নম্বর ১, ২, ৩ এবং ৪-এ টিকিট কাউন্টার আছে। অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

🎡 প্রধান আকর্ষণসমূহ (Main Attractions)

ইকোপার্ক বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, তাই এটিকে কয়েকটি প্রধান জোনে ভাগ করা যায়:

১. সেভেন ওয়ান্ডার্স (Seven Wonders of the World):

এটি ইকোপার্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ (৪ নম্বর গেটের কাছে)। এখানে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের রেপ্লিকা তৈরি করা হয়েছে।

 * মিশরের পিরামিড

 * তাজমহল

 * ল্যাটিন আমেরিকার ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার

 * ইস্টার আইল্যান্ড স্ট্যাচু

 * চীনের প্রাচীর

 * রোমান কলোসিয়াম

 * পেত্রা জর্ডান

২. বিভিন্ন থিম গার্ডেন (Theme Gardens):

পার্কের ভেতরে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে বিভিন্ন থিমের বাগান রয়েছে।

 * বাটারফ্লাই গার্ডেন (Butterfly Garden): বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি দেখার জন্য একটি ডোম বা গম্বুজ।

 * মাস্ক গার্ডেন (Mask Garden): বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুখোশ দিয়ে সাজানো।

 * রোজ গার্ডেন ও ফলের বাগান: অজস্র গোলাপ ও ফলের গাছ।

 * জাপানিজ ফরেস্ট (Japanese Forest): শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, যেখানে জাপানি স্থাপত্যের ছোঁয়া আছে।

৩. বিশাল জলাশয় ও আইল্যান্ড:

পার্কের মাঝখানে রয়েছে বিশাল জলাশয়। এর মাঝে রয়েছে একটি ছোট দ্বীপ, যেখানে ‘ক্যাফে একান্তে’ (Cafe Ekante) রেস্তোরাঁ অবস্থিত। বোটিং করে বা কাঠের সেতু দিয়ে সেখানে যাওয়া যায়।

৪. আইফেল টাওয়ার রেপ্লিকা:

প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের একটি ছোট সংস্করণ এখানে তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়।

🚴‍♂️ অ্যাক্টিভিটি ও রাইড (Activities & Rides)

ইকোপার্কে শুধু ঘুরে দেখা নয়, নানারকম বিনোদনের ব্যবস্থাও আছে:

 * বোটিং: প্যাডেল বোট, স্পিড বোট এবং কায়াকিং-এর ব্যবস্থা আছে।

 * সাইক্লিং: একা বা দুজন মিলে চালানোর জন্য (Duo Cycling) সাইকেল ভাড়ায় পাওয়া যায়।

 * টয় ট্রেন: পুরো পার্কটি ঘুরে দেখার জন্য টয় ট্রেনের ব্যবস্থা আছে।

 * ই-বাইক (E-byke): ব্যাটারি চালিত বাইক।

 * গেমিং জোন: বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন ভিডিও গেম ও রাইড।

 * মিউজিক্যাল ফাউন্টেন: সন্ধ্যার পরে মিউজিক্যাল ফাউন্টেনের শো হয়।

💡 ভ্রমণের কিছু জরুরি টিপস

১. হাঁটার প্রস্তুতি: পার্কটি বিশাল বড়। পুরোটা ঘুরতে হলে প্রচুর হাঁটতে হবে। তাই আরামদায়ক জুতো পরা বাঞ্ছনীয়।

২. সময় ব্যবস্থাপনা: বিকেলের দিকে যাওয়াই ভালো। তাহলে রোদের তাপ কম লাগবে এবং সন্ধ্যার আলোকসজ্জা উপভোগ করা যাবে। তবে সব কিছু ভালো করে দেখতে হলে হাতে অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা সময় নিয়ে যাবেন।

৩. গেট নির্বাচন: আপনি যদি শুধু ‘সেভেন ওয়ান্ডার্স’ দেখতে চান, তবে ৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকলে সুবিধা হবে। আর যদি মেইন পার্ক ও ঝিল দেখতে চান, তবে ১ বা ২ নম্বর গেট ভালো।

 

🍽️ খাওয়া-দাওয়া

পার্কের ভেতরে এবং বাইরে প্রচুর খাবারের দোকান আছে।

 * ভেতরে ফুড কোর্ট এবং ছোট ছোট স্টল আছে।

 * ক্যাফে একান্তে: প্রিমিয়াম ডাইনিং-এর জন্য আইল্যান্ডে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি সেরা।

 * মিষ্টি হাব (Misti Hub): ৩ নম্বর গেটের ঠিক পাশেই অবস্থিত, যেখানে বাংলার নামকরা সব মিষ্টির দোকানের আউটলেট এক ছাদের নিচে পাওয়া যায়।

ইকোপার্ক পরিবার, বন্ধু-বান্ধব বা দম্পতির সাথে সময় কাটানোর জন্য একটি দুর্দান্ত জায়গা। বিশেষ করে শীতকালে এখানকার পরিবেশ ও ফুলের মেলা মন ভালো করে দেয়।

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা বা হাওড়ার যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে করে ‘ইকোপার্ক’ স্টপে নামা যায়।

 * হাওড়া থেকে: এসি ১২ (AC 12) বা নিউটাউনগামী যে কোনো বাস।

 * উল্টোডাঙা বা শিয়ালদহ থেকে: সল্টলেক সেক্টর ৫ বা নিউটাউনগামী অটো বা বাস।

 * মেট্রো: বর্তমান নিকটতম মেট্রো স্টেশন সল্টলেক সেক্টর ৫ (সেখান থেকে অটো বা বাসে ১০-১৫ মিনিট)।

Google Maps

Scroll to Top