গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান হল নবদ্বীপ। তবে, বর্তমানে মহাপ্রভুর জন্মস্থান হিসেবে মায়াপুরকেই চিহ্নিত করা হয়।

জন্ম ও পরিচয়

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু, যিনি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নামেও পরিচিত, ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি (ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নবদ্বীপ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল জগন্নাথ মিশ্র এবং মাতার নাম শচী দেবী। তাঁর পূর্বাশ্রমের নাম ছিল বিশ্বম্ভর মিশ্র।

জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। প্রাচীন নবদ্বীপ শহরের অবস্থান ভাগীরথী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বদলে গেছে। তাই বর্তমানে নবদ্বীপ শহর এবং তার আশপাশের কয়েকটি স্থানকে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে, বেশিরভাগ ভক্ত এবং ঐতিহাসিকদের মতে, মায়াপুরের যোগপীঠ মন্দিরটিই তাঁর প্রকৃত জন্মস্থান। এই মন্দিরে মহাপ্রভুর এবং তাঁর পিতামাতার মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এটি বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এই স্থানে মহাপ্রভুর জন্মোৎসব ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন।

যোগপীঠের দর্শনীয় স্থান:

যোগপীঠ হলো গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান, যা ভক্তদের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখতে পাবেন:

 * জন্মস্থান মন্দির: এখানে মূল মন্দিরটি রয়েছে, যেখানে একটি নিম গাছের নিচে শচীদেবীর কোলে শিশু নিমাইয়ের বিগ্রহ রয়েছে। এটিই মহাপ্রভুর প্রকৃত জন্মস্থান বলে বিশ্বাস করা হয়।

 * লক্ষ্মী নরসিংহ মন্দির: মূল মন্দিরের পিছনে শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ এবং গৌরা-গদাধরের বিগ্রহ রয়েছে।

 * ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সমাধি: যোগপীঠের প্রবেশপথের ডানদিকে শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের পুষ্প সমাধি মন্দির রয়েছে, যিনি এই পবিত্র স্থানটি পুনরায় আবিষ্কার করেছিলেন।

ভ্রমণের অন্যান্য টিপস:

 * সময়: যোগপীঠ মন্দির সাধারণত সকাল ৮:৩০ থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। ইসকন মন্দিরের দর্শন সময় সকাল ৪:৩০ থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত।

 * থাকা-খাওয়া: মায়াপুরে ইসকনের বিভিন্ন গেস্ট হাউস রয়েছে যেখানে সুলভে থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও আশেপাশের এলাকায় অনেক বেসরকারি হোটেল ও লজ পাওয়া যায়। এখানে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

 * অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: যোগপীঠের পাশাপাশি মায়াপুরের ইসকন মন্দির (চন্দ্রোদয় মন্দির), সমাধি মন্দির, ভজন কুটির এবং শ্রী চৈতন্য মঠও ঘুরে দেখতে পারেন।

যোগপীঠ মন্দিরটি একটি শান্ত এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশ প্রদান করে, যা ভক্তদের জন্য এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা।

কিভাবে এখানে আসবেন

কীভাবে পৌঁছাবেন:

যোগপীঠ পৌঁছানোর জন্য প্রথমে আপনাকে মায়াপুর আসতে হবে। মায়াপুর কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

 * রেলপথে: শিয়ালদহ স্টেশন থেকে কৃষ্ণনগর লোকালে উঠে নবদ্বীপ ধাম স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে টোটো বা অটো নিয়ে বড়ালঘাটে যান। বড়ালঘাট থেকে লঞ্চ বা নৌকাযোগে গঙ্গা পার হয়ে মায়াপুর ঘাটে পৌঁছান। এরপর টোটো বা রিকশা করে সরাসরি যোগপীঠ মন্দিরে যেতে পারবেন।

 * সড়কপথে: কলকাতা থেকে সরাসরি বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে মায়াপুর যাওয়া যায়। ন্যাশনাল হাইওয়ে ৩৪ ধরে কৃষ্ণনগর হয়ে মায়াপুর পৌঁছাতে পারেন। কলকাতা থেকে বাসে আসতে হলে বহরমপুর, মালদা বা উত্তরবঙ্গের বাসে করে ধুবুলিয়া বা চৌগাছা বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে বা টোটো বা বাসে করে মায়াপুর ইসকন মন্দিরের মেনগেটে নামতে পারবেন।

 * আকাশপথে: নিকটতম বিমানবন্দর হলো কলকাতা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখান থেকে সড়কপথে মায়াপুর যেতে হবে।

Google Maps

Scroll to Top