ঝড়খালি ব্যাঘ্র উদ্ধার কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঝড়খালি (Jharkhali)। মূলত ব্যাঘ্র সংরক্ষণ এবং সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
১. প্রধান আকর্ষণ: ব্যাঘ্র প্রকল্প ও পার্ক
ঝড়খালি টাইগার রেসকিউ সেন্টার (Jharkhali Tiger Rescue Centre) মূলত সুন্দরবনের একটি অত্যাধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং পর্যটন কেন্দ্র। এটি সাধারণ চিড়িয়াখানার চেয়ে আলাদা, কারণ এখানে মূলত লোকালয়ে ঢুকে পড়া বা অসুস্থ বাঘেদের এনে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
# বাঘেদের বিশেষ এনক্লোজার
এই সেন্টারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল আকৃতির এনক্লোজার। এখানে বাঘেদের এমনভাবে রাখা হয় যাতে তারা খাঁচার বদলে প্রাকৃতিক পরিবেশ পায়।
নিরাপদ দর্শন: পর্যটকরা উঁচু তারজালের বেড়ার বাইরে থেকে খুব কাছ থেকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পান।
পুনর্বাসন: যখন কোনো বাঘ পথ ভুল করে গ্রামে ঢুকে পড়ে বা আহত হয়, বন দপ্তর তাকে উদ্ধার করে এখানে নিয়ে আসে। সুস্থ হওয়ার পর অনেক সময় তাদের আবার গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
# মেছো বিড়াল বা ফিশিং ক্যাট (Fishing Cat)
টাইগার রেসকিউ সেন্টারের ভেতরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পশু মেছো বিড়াল বা ফিশিং ক্যাট-এর জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে। এখানে এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
# কুমির ও কচ্ছপ প্রকল্প
বাঘের পাশাপাশি এখানে একটি কৃত্রিম জলাশয় বা পুকুর রয়েছে যেখানে বিশালাকার নোনা জলের কুমির দেখা যায়। এছাড়া সুন্দরবনের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ (যেমন- Batagur baska) সংরক্ষণের কাজও এখানে চলে।
# ওয়াচ টাওয়ার ও ম্যানগ্রোভ ভিউ
সেন্টারের ভেতরে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার আছে।
এখান থেকে একদিকে যেমন বাঘেদের মুভমেন্ট দেখা যায়, অন্যদিকে দিগন্তবিস্তৃত হেতাল ও গোলপাতার বন দেখা যায়।
পুরো এলাকাটি সুন্দরভাবে সাজানো এবং এটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক মুক্ত অঞ্চল হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।
* প্রজাপতি বাগান ও চিলড্রেন পার্ক: শিশুদের বিনোদনের জন্য এখানে সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে।
২. খরচ ও সময়সীমা
* টিকিট মূল্য: পার্কে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৩০ টাকা ও বাচ্চাদের ১০ টাকা ফি লাগে। ক্যামেরার জন্য আলাদা চার্জ লাগতে পারে।
* সময়: পার্কটি সাধারণত সকাল 9am থেকে বিকেল 4pm পর্যন্ত খোলা থাকে।
৩. নৌবিহার বা বোট সাফারি
ঝড়খালি জেটি ঘাট থেকে আপনি নৌকা ভাড়া করে সুন্দরবনের ভেতরে ঘুরতে পারেন। এখান থেকে বনি ক্যাম্প, কলস দ্বীপ বা দোবাঁকি যাওয়ার বোট পাওয়া যায়। ম্যানগ্রোভের খাঁড়ি দিয়ে নৌকা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দারুণ রোমাঞ্চকর।
৪. কোথায় থাকবেন?
ঝড়খালিতে এখন বেশ কিছু উন্নতমানের সরকারি ও বেসরকারি রিসোর্ট এবং লজ গড়ে উঠেছে।
* পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) নিজস্ব লজ রয়েছে।
* বাজেট অনুযায়ী অনেক হোম-স্টে এবং বেসরকারি হোটেলও সহজলভ্য।
ভ্রমণের সেরা সময়
* শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): ঘোরার জন্য সবথেকে আরামদায়ক সময়।
* বর্ষাকালে সুন্দরবন এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ নদীর জলস্তর বেড়ে যায় এবং আবহাওয়া প্রতিকূল থাকতে পারে।
ভ্রমণ টিপস:
পার্কে বা বাঘ দেখার সময় চিৎকার করবেন না। ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না। সাথে সবসময় পরিচয়পত্র (ID Proof) রাখুন, বিশেষ করে যদি বোট সাফারিতে গভীর জঙ্গলের দিকে যান।
কিভাবে এখানে আসবেন
কলকাতা থেকে খুব সহজেই ঝড়খালি যাওয়া যায়:
* ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে ক্যানিংগামী (Canning) লোকালে উঠতে হবে। ক্যানিং স্টেশনে নেমে বাইরে থেকে অটো বা ম্যাজিক ভ্যানে করে সরাসরি ঝড়খালি যাওয়া যায় (সময় লাগে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টা)।
* সড়কপথে: কলকাতা থেকে বারুইপুর-ক্যানিং রোড হয়ে বাস বা নিজস্ব গাড়িতে বাসন্তী হয়ে ঝড়খালি পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ১০০ কিমি।
সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels
Mob: +91 9832411997
