কমলাকান্তের কালী বাড়ি
কমলাকান্তের কালীবাড়ি, যা বর্ধমান শহরের বোরহাট অঞ্চলে অবস্থিত, তা সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের সাধনপীঠ হিসেবে সুপরিচিত।
🗺️ কমলাকান্তের কালীবাড়ি:
অবস্থান ও পরিচিতি
* স্থান: বোরহাট, বর্ধমান শহর, পূর্ব বর্ধমান জেলা, পশ্চিমবঙ্গ।
* ইতিহাস: এই কালীবাড়িটি ১৮০৯ সালে সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন মহারাজ তেজচন্দ্র মহতাবের সভাকবি এবং গুরু।
* গুরুত্ব: কথিত আছে, কমলাকান্ত এই মন্দিরেই পঞ্চমুণ্ডির আসন প্রতিষ্ঠা করে কালীর সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
মন্দিরের বিশেষত্ব
* স্থাপনা: মন্দিরটি বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র মহতাব সাধক কমলাকান্তকে তাঁর সাধন-ভজনের জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন।
* দেবী বিগ্রহ: এই মন্দিরের মা কালীকে ‘জীবন্ত কালীমা’ বা ‘ব্রহ্মময়ী কালী’ হিসেবে মানা হয়।
* সমাধি: সাধক কমলাকান্তের মৃত্যুর পর, তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী, মায়ের বেদীর নিচে তাঁর সমাধি রয়েছে।
* মৃন্ময়ী মূর্তি: একসময় ১৯৭০ সাল পর্যন্ত, কালীপুজোর পর মা কালীর মৃন্ময়ী মূর্তি এক বছরের জন্য রেখে দেওয়া হত।
* ঐতিহ্য: এখনও এই মন্দিরে পুরোনো প্রথা মেনেই নিত্য পূজা হয় এবং দ্বিপান্বিতা কালীপুজোর সময় তিন দিন ধরে বিশেষ উৎসব চলে।
কমলাকান্তের কালীবাড়ির পূজার সময়সূচি
নিত্য পূজা
* সময়: এই মন্দিরে প্রতিদিন মায়ের নিত্য পূজা হয়। যদিও নির্দিষ্ট প্রারম্ভ বা সমাপ্তির সময়সূচি দেওয়া নেই, ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরগুলিতে সাধারণত সকালে পূজা এবং সন্ধ্যায় আরতি অনুষ্ঠিত হয়।
* সন্ধ্যা আরতির সময় মন্দির প্রাঙ্গণ শঙ্খের ধ্বনিতে মুখরিত থাকে।
* ভোগ: নিত্যপুজোর পর প্রতিদিনই প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং বহু ভক্ত সেই প্রসাদ গ্রহণ করেন।
প্রধান উৎসব: দীপান্বিতা কালীপূজা
* সময়কাল: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে (দীপান্বিতা কালীপুজো) এখানে তিন দিন ধরে উৎসব চলে। এটি এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
* ভোগের বিশেষত্ব: কালীপুজোর সময় ভোগে নানা পদের সাথে মাগুর মাছের পদ (মাছের টক বাদে) পরিবেশন করা হয়। এই মন্দিরের ভোগের একটি বিশেষ ঐতিহ্য এটি, যা সাধক কমলাকান্তের সময়কাল থেকে চলে আসছে। বর্তমানে ভোগে প্রায় ১৫ রকমের ভাজা, পোলাও, খিচুড়ি, সবজি এবং পায়েস থাকে।
* আয়োজনের পদ্ধতি: এই মন্দিরের পুজো সম্পূর্ণভাবে ভক্তদের দান এবং উদ্যোগের উপরে নির্ভর করে চলে, যা কমলাকান্তের সময় থেকে চলে আসা এক ঐতিহ্য। কোনো চাঁদা নেওয়া হয় না।
* বলিদান: বর্তমানে মন্দিরে প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ। ছাগ বলিদানের প্রথা বছর কয়েক আগেই বন্ধ হয়েছে। এখন প্রতীকী হিসেবে চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়।
যদি আপনি নির্দিষ্ট কোনো দিনে বা উৎসবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে স্থানীয় মন্দির কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে বা সরাসরি মন্দিরে গিয়ে পূজার সঠিক সময় জেনে নেওয়া ভালো।
ঐতিহাসিক তথ্য
কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম কাটোয়ায় হলেও, তিনি বর্ধমানের মহারাজ তেজচন্দ্রের অনুরোধে তাঁর উচ্ছৃঙ্খল পুত্র প্রতাপচন্দ্রকে শিক্ষাদীক্ষায় উপযুক্ত করার জন্য বর্ধমানে আসেন। মহারাজ তাঁকে লাকুর্ডিতে বাড়ি এবং কোটালহাটে (বর্তমানে বোরহাট সংলগ্ন) মন্দিরের জন্য জমি দান করেন, যেখানে তিনি কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
আপনি যদি এই কালীবাড়িটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাহলে বিশেষত কালীপুজোর সময় গেলে মন্দিরের উৎসব ও জাঁকজমক উপভোগ করতে পারবেন।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
* রেলপথে: নিকটতম প্রধান স্টেশন হল বর্ধমান জংশন (BWN)। কলকাতা বা অন্যান্য শহর থেকে ট্রেনে বর্ধমান পৌঁছে যান।
* বাস/অটো/টোটো: বর্ধমান স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাসস্ট্যান্ড বা ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে বোরহাট গামী অটো, টোটো বা রিকশা নিতে পারেন।
* সড়কপথে: কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ১৯ (NH 19) ধরে বর্ধমান শহরে প্রবেশ করে বোরহাটের দিকে যেতে হবে।
* সময়: বর্ধমান শহর থেকে স্থানীয় যানবাহনে মন্দিরে পৌঁছাতে সাধারণত ১৫-২০ মিনিটের বেশি সময় লাগে না।
