কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান

ভারতের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের কাছে অজয় নদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত চুরুলিয়া গ্রামটি হলো বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান। এই গ্রামটি ‘কবিতীর্থ’ নামেও পরিচিত।

চুরুলিয়া ভ্রমণের মূল আকর্ষণ:

 * নজরুল অ্যাকাডেমি ও সংগ্রহশালা (কবিতীর্থ): এটিই কবির জন্মভিটা। ছোট মাটির ঘরের জায়গায় এখন দোতলা ভবন, যার নিচতলায় নজরুল অ্যাকাডেমি ও সংগ্রহশালা অবস্থিত। ১৯৫৮ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

   * সংগ্রহশালা: এখানে কবি ও তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, যেমন পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, আসবাবপত্র, স্ত্রী প্রমীলা দেবীর ব্যবহৃত খাট, পুরোনো ম্যাগাজিন, পেপার কাটিং, পাণ্ডুলিপি, আলোকচিত্র এবং বিভিন্ন সময়ে পাওয়া কবির পুরস্কার ও পদক সযত্নে সংরক্ষিত আছে।

   * সংগ্রহশালায় কবির জীবনের বিভিন্ন বাঁক নেওয়া ঘটনার ইতিহাস সম্পর্কিত তথ্য এবং গবেষকদের জন্য বইও রয়েছে।

 * প্রমীলা দেবীর সমাধি: চুরুলিয়ায় কবির স্ত্রী প্রমীলা দেবীর সমাধি রয়েছে। কবিপত্নীর ইচ্ছানুসারেই তাঁকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়। কবির প্রতীক-সমাধিও (তাঁর কবরের মাটি এনে) প্রমীলার কবরের পাশে তৈরি করা হয়েছে।

* হাজী পালোয়ানের মাজার ও মসজিদ: চুরুলিয়ায় একটি প্রাচীন হাজী পালোয়ানের মাজার এবং মুসলিম স্থাপত্যের একটি ভালো উদাহরণস্বরূপ একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে নজরুল একসময় ইমামতি করতেন।

 * কাজী নজরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয়: কবির নামাঙ্কিত এই মহাবিদ্যালয়টি চুরুলিয়া গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত।

 * নজরুল বিদ্যাপীঠ: কবিতীর্থ চুরুলিয়া নজরুল বিদ্যাপীঠ (প্রাথমিকভাবে ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত) বিদ্যালয়ের দেয়ালে কবির বিখ্যাত কবিতার পঙ্ক্তি উৎকীর্ণ করা আছে।

ভ্রমণ নির্দেশিকা:

 * অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার অন্তর্গত চুরুলিয়া। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২১৫ কিলোমিটার।

 * ভ্রমণের সেরা সময়: নজরুলের জন্মজয়ন্তীর সময় প্রতি বছর সপ্তাহব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ভারত ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিকরা অংশ নেন। এই সময় গ্রামটি বিশেষভাবে মুখরিত থাকে।

চুরুলিয়া একটি অপেক্ষাকৃত শান্ত গ্রাম। এখানে গেলে কবির স্মৃতিচিহ্ন ও গ্রামের মাটির ঘরের পরিবেশে এক ধরনের শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়।

 * বছরের সেরা সময়: অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আবহাওয়া মনোরম থাকে।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা:

 * চুরুলিয়া গ্রামে থাকার জন্য বিশেষ ভালো ব্যবস্থা নেই। পর্যটকদের সাধারণত আসানসোল শহরে থাকতে হয়, যেখানে বিভিন্ন মানের হোটেল ও লজ পাওয়া যায়।

 * আসানসোলে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ আছে। চুরুলিয়া গ্রামে স্থানীয় খাবারের ছোট দোকান পেতে পারেন।

টিপস:

 * চুরুলিয়া এক দিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। সকালে আসানসোলে পৌঁছে প্রধান স্থানগুলি ঘুরে বিকেলে বা সন্ধ্যার ট্রেনে ফিরে আসা সম্ভব।

 * নজরুল অ্যাকাডেমি পরিদর্শনের সময় ও নিয়ম জেনে যাওয়া ভালো।

 * গ্রামের পরিবেশ এখনও বেশ শান্ত ও গ্রামীণ। এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে ভ্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া

উচিত।

Google Maps

কিভাবে এখানে আসবেন

   * রেলপথে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে আসানসোল জংশন পৌঁছানো সবচেয়ে সুবিধাজনক। আসানসোল থেকে চুরুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ১৭ থেকে ১৯ কিলোমিটার। আসানসোল থেকে বাস বা স্থানীয় যানবাহনে চুরুলিয়া যাওয়া যায়।

   * সড়কপথে: কলকাতা থেকে জিটি রোড ধরে বাস বা গাড়িতে বর্ধমান, পানাগড়, দুর্গাপুর, রানিগঞ্জ হয়ে আসানসোল যাওয়া যায়। আসানসোল থেকে বাসে চুরুলিয়া গ্রামের মোড় পর্যন্ত যাওয়া যায়।

Scroll to Top