কবি কৃত্তিবাস
ফুলিয়া (Phulia) পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার একটি বিখ্যাত স্থান, যা প্রধানত তার তাঁতশিল্প এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। এটি শান্তিপুরের কাছেই অবস্থিত এবং এক দিনের ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
ফুলিয়ার খ্যাতি
ফুলিয়া মূলত তার তাঁতের শাড়ির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এখানকার তাঁতিদের তৈরি সুতির এবং সিল্কের শাড়ির কারুকার্য অত্যন্ত নিপুণ। এ ছাড়াও, এটি আদিকবি কৃত্তিবাস ওঝার জন্মস্থান হিসেবে বিখ্যাত, যিনি বাংলায় রামায়ণ রচনা করেন। বৈষ্ণব ধর্মগুরু হরিদাস ঠাকুরের ভজনস্থলও এই ফুলিয়াতেই অবস্থিত।
ফুলিয়ার প্রধান দর্শনীয় স্থান
ফুলিয়ায় দেখার মতো প্রধান স্থানগুলি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বৈষ্ণব ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত:
১. কৃত্তিবাস ওঝার জন্মস্থান ও সংগ্রহশালা
আদিকবি কৃত্তিবাস ওঝার স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানে একটি সংগ্রহশালা রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ভাষায় লেখা রামায়ণের একাধিক সংস্করণ এবং ৩৬টি তৈলচিত্রে রামের জীবনীর বর্ণনা দেখতে পাবেন। এটি ইতিহাস ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
২. হরিদাস ঠাকুরের ভজনস্থলী বা সাধনপীঠ
এই শান্ত স্থানটি বৈষ্ণব ভক্ত হরিদাস ঠাকুরের সাধনপীঠ। শ্রীচৈতন্যদেব নীলাচল যাওয়ার পথে এখানে কয়েকদিন অবস্থান করেছিলেন এবং ভক্তদের দর্শন দিয়েছিলেন।
* স্থানটি গাছপালায় ছাওয়া, খুব শান্ত ও ধ্যানগম্ভীর।
* এখানে পাশাপাশি ৮টি তুলসীমঞ্চ রয়েছে, যা কৃষ্ণের আট সখীকে কল্পনা করে তৈরি করা হয়েছে।
* ভিতরে বৈষ্ণব ভক্ত জগদানন্দ গোস্বামী কর্তৃক স্থাপিত রাধা-কৃষ্ণ ও বলরাম-রেবতীর মূর্তি রয়েছে।
* হরিদাস ঠাকুরের ভজন গোফায় তাঁর মন্দির তৈরি হয়েছে। বৈষ্ণবদের কাছে এটি একটি পরম তীর্থক্ষেত্র।
৩. তাঁতশিল্প কেন্দ্র
ফুলিয়া ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার তাঁত শিল্পের কাজ দেখা। ফুলিয়া তার উন্নত মানের শাড়ি ও বস্ত্রের জন্য বিখ্যাত। আপনি স্থানীয় তাঁতিদের বাড়ি বা তাঁত
কেন্দ্রগুলিতে গিয়ে হাতে তৈরি শাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পারেন। তাঁত বুনা থেকে শুরু করে সুতোর কাজ — সবটাই খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে।
অন্যান্য আকর্ষণ ও টিপস
* রসগোল্লা: ফুলিয়া তার রসগোল্লার জন্যও বিখ্যাত। এখানে রসগোল্লা উৎসবও পালিত হয়। স্থানীয় মিষ্টির দোকান থেকে অবশ্যই এই বিখ্যাত মিষ্টি চেখে দেখুন।
* কেনাকাটা: ফুলিয়া থেকে সরাসরি তাঁত শিল্পীদের কাছ থেকে খুব ভালো দামে সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি কিনতে পারবেন।
* ভ্রমণের সময়: ফুলিয়া একদিনের ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট। তবে শান্তিপুর, নবদ্বীপ ইত্যাদি কাছাকাছি স্থানগুলির সাথে একসাথে ঘোরার পরিকল্পনা করলে সময় বেশি লাগতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফুলিয়ায় দর্শনের স্থানগুলি ঘুরে দেখতে এবং তাঁতের কাজ দেখতে দেখতে আপনার একটি সম্পূর্ণ দিনের প্রয়োজন হবে।
ফুলিয়া একটি শান্ত, গ্রামীণ পরিবেশে সাহিত্য, ধর্ম এবং লোকশিল্পের এক সুন্দর মেলবন্ধন।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
ফুলিয়া কলকাতা থেকে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* ট্রেনে: শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শান্তিপুর লোকাল ট্রেনে উঠে ফুলিয়া স্টেশনে নামতে পারেন। ট্রেন পথে এটি রানাঘাট-শান্তিপুর লাইনে পড়ে।
* সড়ক পথে: সড়ক পথে জাতীয় সড়ক ৩৪ (NH 34/ NH 12) ধরে ফুলিয়া পৌঁছানো যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাসে যাওয়া সুবিধাজনক।
