কৃষ্ণসায়র পার্ক
🏞️ কৃষ্ণসায়র পার্ক বর্ধমান শহরের এক ব্যস্ততার মাঝে যেন সবুজের এক শান্ত মরূদ্যান। প্রায় ৩৩ একর জমির উপর নির্মিত এই স্থানটি কৃত্রিম জলাধার (‘সায়র’) এবং তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা মনোরম পরিবেশ উদ্যান বা ইকোলজিক্যাল পার্কের জন্য বিখ্যাত।
📜 ইতিহাস
* প্রতিষ্ঠা: জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৬৯১ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমানের তৎকালীন রাজা কৃষ্ণরাম রাই দুর্ভিক্ষপীড়িত প্রজাদের কর্মসংস্থান এবং জলকষ্ট দূর করার জন্য এই বিশাল জলাশয় বা ‘সায়র’টি নির্মাণ করেন।
* নামকরণ: রাজার নাম অনুসারেই এর নাম হয় কৃষ্ণসায়র।
* রাজবংশের যোগ: একসময় বর্ধমান রাজপরিবারের শুভ অনুষ্ঠানে এই সায়রের জল ব্যবহার করা হতো বলে শোনা যায়।
🌳 পার্কের আকর্ষণীয় বিষয়
* বিশাল জলাধার (কৃষ্ণসায়র): পার্কের কেন্দ্রে রয়েছে এই সুবিশাল কৃত্রিম হ্রদ, যা পার্কের প্রধান আকর্ষণ। লেকের চারপাশ সবুজে মোড়া।
* সবুজের সমারোহ: পার্কে প্রায় ১৫০ প্রজাতির বড় গাছ ও অসংখ্য গুল্ম-লতা রয়েছে। এটি শহরের দূষণ থেকে মুক্তির একটি আদর্শ স্থান।
* পাখি ও প্রকৃতি: পার্কটি বিভিন্ন কীট, পতঙ্গ, জলজ প্রাণী এবং প্রায় ২২ ধরনের প্রজাপতির আবাসস্থল।
* শীতকালে পরিযায়ী পাখি: শীতকালে সাইবেরিয়া সহ দেশ-বিদেশ থেকে বহু পরিযায়ী পাখি এখানে আসে, যা পাখিপ্রেমীদের জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
* নৌবিহার: লেকে রাজকীয় মেজাজে নৌবিহারের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে এটি কিছুটা খরচসাপেক্ষ হতে পারে।
* অন্যান্য ভাস্কর্য: উদ্যানটির একসময় বর্ধমান আর্ট কলেজের ক্যাম্পাস ছিল। তাই এখনও এখানে শিল্পীদের তৈরি করা নানা মূর্তি ও স্থাপত্য অগোছালোভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা এক বিশেষ শিল্পময় পরিবেশ তৈরি করে।
* আড্ডা ও বিশ্রাম: এটি স্থানীয় তরুণ-তরুণী এবং সকল বয়সের মানুষের কাছে আড্ডা ও মানসম্পন্ন সময় কাটানোর জন্য খুব জনপ্রিয়।
🕒 প্রবেশ ও সময়সূচী
* টিকিট মূল্য: সাধারণত পার্কের প্রবেশ মূল্য ₹২৫ (পরিবর্তন সাপেক্ষ)।
* সময়সীমা: টিকিটে সাধারণত ২ ঘণ্টার জন্য পার্কে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। এর চেয়ে বেশি সময় থাকলে অতিরিক্ত চার্জ লাগতে পারে।
* খোলার সময় (সাধারণত):
* সোমবার থেকে শনিবার: সকাল ১১:০০টা থেকে বিকেল ৫:০০টা পর্যন্ত।
* রবিবার: সকাল ১১:১৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত। (সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে)।
📝 ভ্রমণ টিপস
* পার্কটি সুসংগঠিত এবং শান্ত হলেও, কিছু কিছু স্থানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা যেতে পারে।
* শীতকাল পাখি দেখার জন্য আদর্শ সময়।
* পার্কের প্রবেশদ্বারের আশেপাশে ছোটখাটো খাবারের স্টল রয়েছে।
কৃষ্ণসায়র পার্ক বর্ধমান ভ্রমণের সময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শহরের ইতিহাসের ছোঁয়া পেতে হলে অবশ্যই ঘুরে আসা উচিত।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
* রেলপথে: বর্ধমান জংশন স্টেশনে নেমে, পার্কের দূরত্ব কম হওয়ায় সেখান থেকে সহজেই টোটো বা অটো পাওয়া যায়।
* টোটো/অটোরিকশা: স্টেশন বা শহরের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে গোলাপবাগ এলাকার এই পার্কে পৌঁছানোর জন্য টোটো বা অটো সবচেয়ে সুবিধাজনক ও কম খরচের মাধ্যম।
* সড়কপথ: ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাসে বর্ধমান শহরে এসে শহরের অভ্যন্তরে স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করে সরাসরি পার্কে পৌঁছানো যায়।
