মাইথন ড্যাম
মাইথন ড্যাম ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ থেকে প্রায় ৪৮ কিমি দূরে এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার শেষ প্রান্তে বরাকর নদীর ওপর অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এটি মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পাহাড়, বাঁধ, এবং সুবিশাল জলাধারের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য এই জায়গাটি ভ্রমণকারীদের মধ্যে খুব প্রিয়।
দর্শনীয় স্থান (Places to Visit):
মাইথনে আপনি বেশ কিছু সুন্দর জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন:
* মাইথন ড্যাম (Maithon Dam): বরাকর নদীর ওপর তৈরি এই বাঁধটি প্রধান আকর্ষণ। এর সুবিশাল জলাধার এবং চারপাশের পাহাড়ের দৃশ্য অত্যন্ত মনোহর। বাঁধের ওপর দিয়ে হাঁটা বা গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় (কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে)।
* ভূগর্ভস্থ পাওয়ার স্টেশন (Underground Power Station): এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। এটি একটি প্রধান আকর্ষণ, যদিও বর্তমানে পর্যটকদের প্রবেশাধিকারের জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।
* কল্যাণেশ্বরী মন্দির (Kalyaneswari Temple): মাইথনের খুব কাছেই (প্রায় ৫ কিমি) আসানসোল প্রান্তে এই ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো কালী মন্দিরটি অবস্থিত। এটি একটি বিখ্যাত শক্তিপীঠ, যেখানে দেবী কল্যাণেশ্বরী রূপে পূজিত হন।
* ভান্ডারা পাহাড় (Bhandara Pahar) বা মিলেনিয়াম পার্ক (Millennium Park): কল্যাণেশ্বরী মন্দিরের কাছে অবস্থিত একটি ছোট পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করলে ড্যাম এবং চারপাশের এলাকার সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। এখানে একটি শিব মন্দিরও আছে।
* ড্যামের জলাধার (Maithon Reservoir): ড্যামের জলাধারে বোটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি বিস্তীর্ণ জলরাশির মাঝে কিছু দ্বীপের কাছাকাছি যেতে পারেন।
* পাঞ্চেত ড্যাম (Panchet Dam): মাইথন থেকে প্রায় ২২ কিমি দূরে দামোদর নদীর ওপর নির্মিত আরও একটি বড় বাঁধ, যা একদিনের ভ্রমণে মাইথনের সাথে জুড়ে নেওয়া যায়।
* গড় পঞ্চকোট (Garh Panchakot): মাইথন থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিমি দূরে অবস্থিত এই জায়গাটি পঞ্চকোট রাজবাড়ির ভগ্নাবশেষ এবং পাঞ্চেত পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটিও মাইথন ভ্রমণের সাথে যোগ করা যেতে পারে।
ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit):
* শীতকাল (অক্টোবর থেকে মার্চ): এই সময়ে আবহাওয়া খুবই মনোরম থাকে, যা ঘোরার জন্য আদর্শ।
* বর্ষাকাল (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর): বাঁধের জলাধারে যখন জল ভরে ওঠে, তখন প্রকৃতির সবুজ ও জলের প্রাচুর্য খুব সুন্দর লাগে। তবে এই সময় বৃষ্টির জন্য কিছু অসুবিধা হতে পারে।
কোথায় থাকবেন (Where to Stay):
মাইথনে থাকার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড দু’টি রাজ্যেই বেশ কিছু ব্যবস্থা আছে। মাইথন ড্যামটি পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় অবস্থিত।
* পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তে:
* যুব আবাস (Youth Hostel): পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুব আবাসে তুলনামূলক কম খরচে থাকা যায়।
* মাইথন ট্যুরিস্ট লজ (WBTDCL Maithon Tourist Lodge): পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এই লজটি জনপ্রিয়।
* এছাড়া কিছু বেসরকারি হোটেল ও লজ পাওয়া যায়, যেমন – মজুমদার নিবাস, শান্তি নিবাস ইত্যাদি।
* ঝাড়খণ্ড প্রান্তে:
* ডিভিসি (DVC)-এর কিছু গেস্ট হাউস এবং বেসরকারি হোটেলও আছে।
কিছু প্রয়োজনীয় টিপস (Essential Tips):
* মাইথন ড্যাম এলাকায় প্রবেশ ও ঘোরার কিছু নির্দিষ্ট সময় থাকে।
* ড্যাম এলাকা সাধারণত পিকনিকের জন্য খুবই জনপ্রিয়, বিশেষত শীতকালে।
* স্থানীয়ভাবে ঘোরার জন্য টোটো বা অটো রিকশা ভাড়া করা যেতে পারে।
* ড্যাম এলাকায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে ভালো লাগে।
* একদিনে কেবল মাইথন ড্যাম ও কল্যাণেশ্বরী মন্দির ঘুরে আসা যায়। পাঞ্চেত ড্যাম এবং গড় পঞ্চকোটের মতো জায়গাগুলি দেখতে হলে ২ দিন ১ রাতের পরিকল্পনা করা ভালো।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
ট্রেনে:
* নিকটতম প্রধান রেলস্টেশন হল আসানসোল জংশন (Asansol Junction), যা মাইথন থেকে প্রায় ২৫ কিমি দূরে অবস্থিত। কলকাতা (হাওড়া/শিয়ালদহ) থেকে আসানসোলের জন্য নিয়মিত ট্রেন (যেমন – ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, ইত্যাদি) চলাচল করে।
* আসানসোল থেকে বাস/ট্যাক্সি/অটো রিকশা করে মাইথন ড্যাম পৌঁছানো যায়।
* কেউ কেউ ধানবাদ (Dhanbad) স্টেশন থেকেও মাইথন যেতে পারেন, দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিমি।
সড়কপথে:
* কলকাতা থেকে সড়কপথেও মাইথন যাওয়া যায়, দূরত্ব প্রায় ২৪০-২৫০ কিমি। আসানসোল পেরিয়ে জিটি রোড (NH-19) ধরে সহজেই পৌঁছানো যায়। নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ার গাড়িতে যাওয়া সুবিধাজনক।
