মৌসুনি আইল্যান্ড

শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ, সমুদ্রের গর্জন আর নোনা হাওয়ার টানে যারা অল্প বাজেটে উইকেন্ড ট্রিপ খুঁজছেন, তাদের জন্য মৌসুনি আইল্যান্ড (Mousuni Island) বর্তমানে অন্যতম সেরা গন্তব্য। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এই দ্বীপটি বালিয়াড়া সমুদ্র সৈকতের জন্য বিখ্যাত।

১. থাকার ব্যবস্থা ও খরচ

মৌসুনি দ্বীপে কোনো বড় হোটেল নেই, এখানে মূলত ক্যাম্পিং বা ইকো-রিসোর্ট জনপ্রিয়।

থাকার ব্যবস্থা আনুমানিক খরচ (জনপ্রতি, খাওয়া-দাওয়া সহ) 

অ্যাডভেঞ্চার টেন্ট ₹১,০০০ – ₹১,২০০ 

মাড হাউস (মাটির ঘর) ₹১,৩০০ – ₹১,৫০০ 

ফ্যামিলি কটেজ (AC/Non-AC) ₹১,৫০০ – ₹২,৫০০ 

২. মৌসুনি দ্বীপের খাওয়া-দাওয়া :

A. সামুদ্রিক মাছ (Seafood)

দ্বীপের মূল আকর্ষণ হলো টাটকা সামুদ্রিক মাছ। সমুদ্র থেকে ধরে আনা মাছ সরাসরি রান্না করা হয়।

 * প্রধান মাছ: ভেটকি, ইলিশ (মৌসুমে), পাবদা, পারশে এবং ভাঙন মাছ।

 * কাঁকড়া ও চিংড়ি: এখানকার কাঁকড়া কারি এবং বাগদা বা গলদা চিংড়ির মালাইকারি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

B. সাধারণ বাঙালি খাবার

ক্যাম্পগুলোতে সাধারণত লাঞ্চ এবং ডিনারে ভরপুর বাঙালি থালি পরিবেশন করা হয়

 * দুপুরের খাবার: গরম ভাত, ডাল, ভাজা (আলু বা বেগুন), সবজি এবং মাছের ঝোল।

 * রাতের খাবার: রুটি বা ভাত, দেশি মুরগির ঝোল (Country Chicken) এবং চাটনি।

C. বিকেলের স্ন্যাকস

সমুদ্রের পাড়ে বসে বিকেলে আপনি পাবেন:

 * মুড়ি মাখা ও গরম গরম পেঁয়াজি বা আলুর চপ।

 * চিকেন পকোড়া বা মাছের চপ।

 * ডাবের জল: দ্বীপের টাটকা ডাবের জল ক্লান্তি দূর করতে দারুণ।

D. বার্বিকিউ (BBQ)

শীতের রাতে বা সন্ধ্যার আড্ডায় মৌসুনি দ্বীপে চিকেন বার্বিকিউ বা ফিশ বার্বিকিউ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বেশিরভাগ ক্যাম্প আগুনের পাশে বসে এই বার্বিকিউ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। তাছাড়া শীতকালে গেলে আপনি টাটকা খেজুরের রস এবং নলেন গুড়ের পিঠে-পুলিও পেতে পারেন।

২. কি কি দেখবেন ও করবেন (Activities)

 * বালিয়াড়া বিচ: এখানে সমুদ্র বেশ শান্ত। ভোরে সূর্যোদয় আর বিকেলে সূর্যাস্ত দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

 * ক্যাম্প ফায়ার ও বারবিকিউ: রাতের বেলা সমুদ্রের ধারে ক্যাম্প ফায়ার এবং চিকেন বারবিকিউ এই ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ।

 * মাঝিবাড়ি ও মোহনা: নৌকা ভাড়া করে বা টোটোতে করে চিনাই নদীর মোহনা দেখে আসতে পারেন।

 * পাখি দেখা: যারা ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি স্বর্গ। শীতকালে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে।

 * গ্রাম্য জীবন: দ্বীপের ভেতর দিয়ে হেঁটে গ্রামীন জীবন এবং ম্যানগ্রোভ বন ঘুরে দেখতে পারেন।

৩. সেরা সময় (Best Time to Visit)

 * অক্টোবর থেকে মার্চ: এটি ভ্রমণের সেরা সময়। আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।

 * বর্ষাকাল: যারা বৃষ্টি ও সমুদ্রের রুদ্ররূপ পছন্দ করেন তারা জুলাই-আগস্টে যেতে পারেন, তবে অনেক সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।

৪. কিছু জরুরি টিপস

 * পাওয়ার ব্যাংক: দ্বীপে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, তাই সাথে পাওয়ার ব্যাংক রাখা ভালো।

 * নগদ টাকা: দ্বীপে ভালো কোনো ATM নেই, তাই পর্যাপ্ত নগদ টাকা সাথে রাখুন।

 * ফার্স্ট এইড: প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং মশা তাড়ানোর ক্রিম (Odomos) অবশ্যই সাথে নেবেন।

 * আগাম বুকিং: উইকেন্ডে প্রচুর ভিড় থাকে, তাই যাওয়ার অন্তত ৭-১০ দিন আগে ক্যাম্প বুক করে নিন।

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে মৌসুনি যাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে:

 * ট্রেনে: শিয়ালদহ থেকে নামখানাগামী (Namkhana) লোকালে চড়ে নামখানা স্টেশনে নামতে হবে (সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা)। সেখান থেকে টোটো, বাস বা ম্যাজিক ভ্যানে করে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদী পেরিয়ে ‘৭ মাইল’ (7 Mile) বা ‘হুজুতের ঘাট’ (Hujut Ghat) পৌঁছাতে হবে।

 * বাসে: ধর্মতলা (Esplanade) থেকে বকখালিগামী বাসে উঠে নামখানা নামতে হবে। এরপর বাকি পথ একই।

 * নদী পারাপার: হুজুতের ঘাট থেকে নৌকায় (ভূটভুটি) ১০-১৫ মিনিটে নদী পার হয়ে মৌসুনি দ্বীপে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে টোটো বা ভ্যানে করে সরাসরি আপনার বুক করা ক্যাম্পে চলে যেতে পারেন।

Google Maps

Scroll to Top