নামখানা

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানা মূলত বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ বা হেনরি আইল্যান্ড যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমানে এটি নিজেই একটি শান্ত ও সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

১. নামখানা কেন যাবেন?

নামখানা মূলত সপ্তমুখী নদীর তীরে অবস্থিত একটি শান্ত গঞ্জ। আপনি যদি শহরের কোলাহল থেকে দূরে নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখতে চান এবং তাজা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে চান, তবে নামখানা আপনার জন্য আদর্শ। এছাড়াও এখান থেকে জলপথে সুন্দরবনের বিভিন্ন খাঁড়ি ও দ্বীপে ঘুরে আসা যায়।

২. দর্শনীয় স্থানসমূহ

নামখানাকে কেন্দ্র করে আপনি নিচের জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে পারেন:

 * হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদী ও ব্রিজ: এই ব্রিজের ওপর থেকে নদী ও চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দারুণ লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যার আলোকসজ্জা দেখার মতো।

 * মাছের আড়ত: নামখানা হলো পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় মাছের বাজার। খুব ভোরে এখানে ট্রলার থেকে মাছ নামানোর দৃশ্য এবং টাটকা ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছের সমাহার দেখার মতো।

 * মৌসুনি দ্বীপ: নামখানা থেকে খেয়া পার হয়ে বা নৌকায় করে কাছেই মৌসুনি দ্বীপ যাওয়া যায়। অফবিট ট্রাভেলারদের জন্য এটি স্বর্গ।

 * বকখালি ও হেনরি আইল্যান্ড: নামখানা থেকে সড়কপথে বকখালি (২৫ কিমি) ও হেনরি আইল্যান্ড খুব কাছে। আপনি একদিনে এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

৩. থাকার ব্যবস্থা

নামখানায় থাকার জন্য মাঝারি মানের বেশ কিছু গেস্ট হাউস এবং লজ রয়েছে। নদীর ধারের লজগুলোতে থাকলে জানলা দিয়েই সুন্দর দৃশ্য পাওয়া যায়। তবে খুব লাক্সারি রিসোর্ট এখানে কম, তাই সাধারণ মানের থাকার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ভালো।

৪. খাওয়া-দাওয়া

নামখানা ভ্রমণের মূল আকর্ষণ হলো সামুদ্রিক মাছ। এখানকার স্থানীয় হোটেলগুলোতে টাটকা ইলিশ, পাবদা, পমফ্রেট এবং কাঁকড়ার ঝাল অবশ্যই ট্রাই করবেন। নদীর ধারের ছোট দোকানগুলোতে বিকেলের দিকে মুড়ি আর গরম চপ বা মাছের ভাজা খাওয়ার মজাই আলাদা।

৫. ভ্রমণের সেরা সময়

 * শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময়।

 * বর্ষাকাল: যারা ইলিশ উৎসব বা নদীর উত্তাল রূপ দেখতে ভালোবাসেন, তারা এই সময়ে যেতে পারেন। তবে দুর্যোগের সম্ভাবনা থাকে বলে সাবধানতা জরুরি।

ভ্রমণ টিপস:

নদীর ধারে ঘোরার সময় স্থানীয় মাঝিদের সাথে কথা বলে ছোট নৌকা ভাড়া করে নদী ভ্রমণ করতে পারেন, এটি একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। 

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে নামখানা যাওয়া খুবই সহজ:

 * ট্রেনে: শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে নামখানাগামী লোকাল ট্রেন পাওয়া যায়। সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা। স্টেশন থেকে টোটো বা রিকশায় করে মূল বাজার বা জেটি ঘাটে আসা যায়।

 * বাসে: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) থেকে বকখালিগামী সরকারি (WBTC) বা বেসরকারি বাসে উঠে নামখানা নামা যায়।

 * গাড়ি: কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ হয়ে সরাসরি নামখানা আসা যায়। বর্তমানে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর ওপর ব্রিজ হয়ে যাওয়ায় নদী পারাপারের ঝামেলা নেই।

Google Maps

Scroll to Top