নেতিধোপানী ক্যাম্প

সুন্দরবনের নেতিধোপানী (Netidhopani) ক্যাম্প ভ্রমণ মানেই ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনী এবং বন্যপ্রাণীর রোমাঞ্চের এক দারুণ মিশ্রণ। এটি সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের (Sunderban Tiger Reserve) কোর এরিয়ার মধ্যে অবস্থিত অন্যতম রহস্যময় এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

১. নেতিধোপানীর ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনী

নেতিধোপানীর নাম শুনলেই উঠে আসে মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনী। লোককথা অনুযায়ী, এই স্থানেই বেহুলা তার মৃত স্বামী লক্ষ্মীন্দরের প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য সতীত্ব ও সংগ্রামের পরিচয় দিয়েছিলেন। এখানে একটি প্রাচীন শিব মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা প্রায় ৩০০-৪০০ বছরের পুরনো বলে ধারণা করা হয়।

২. প্রধান আকর্ষণসমূহ

 * শিব মন্দির: ক্যাম্পের ভেতরে থাকা ঐতিহাসিক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ।

 * UNESCO WORLD HERITAGE SITE MONUMENT 

 * ওয়াচ টাওয়ার: এখান থেকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল এবং বাঘ দেখার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় বাঘ এই মিষ্টি জলের পুকুরে জল খেতে আসে।

 * মিষ্টি জলের পুকুর: ওয়াচ টাওয়ারের ঠিক পাশেই একটি মিষ্টি জলের পুকুর আছে, যা বন্যপ্রাণীদের মূল আকর্ষণ।

 * প্রাকৃতিক দৃশ্য: এখান থেকে নদীর মিলনস্থল এবং ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

৩. প্রয়োজনীয় পারমিট ও খরচ

 * পারমিট: এটি বাঘ সংরক্ষণের মূল এলাকা (Core Area) হওয়ায় এখানে প্রবেশের জন্য বনদপ্তরের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। সজনেখালি রেঞ্জ অফিস থেকে এই অনুমতি পাওয়া যায়।

 * গাইড: নেতিধোপানী যাওয়ার জন্য সরকারি অনুমোদিত গাইড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।

 * সীমিত প্রবেশ: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক নৌকা বা লঞ্চকেই এই ক্যাম্পে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করা জরুরি।

Unesco World Heritage Site Monument 

৪. ভ্রমণের সেরা সময়

 * নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে এবং বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

 * সতর্কতা: বর্ষাকালে বা ঝড়ো আবহাওয়ায় নদী উত্তাল থাকায় এই রুটে ভ্রমণ করা বেশ বিপজ্জনক হতে পারে।

৫. কিছু জরুরি টিপস

 * পরিবেশ রক্ষা: প্লাস্টিক বা আবর্জনা জঙ্গলে ফেলবেন না। এটি সম্পূর্ণ ‘নো প্লাস্টিক’ জোন।

 * পোশাক: উজ্জ্বল রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন। জঙ্গল বা জলপাই (Olive) বা খাকি রঙের পোশাক পরাই ভালো।

 * খাবার: ক্যাম্পের ভেতরে কোনো দোকান নেই, তাই আপনার লঞ্চ বা বোটে খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

 * নিস্তব্ধতা: ওয়াচ টাওয়ারে থাকাকালীন চিৎকার বা হইচই করবেন না, এতে বন্যপ্রাণীরা ভয় পেয়ে দূরে চলে যায়।

কিভাবে এখানে আসবেন

নেতিধোপানী যেতে হলে আপনাকে জলপথের ওপর নির্ভর করতে হবে:

 * প্রবেশ পথ: সাধারণত সজনেখালি (Sajnekhali) থেকে পারমিট নিয়ে লঞ্চ বা বোটে করে নেতিধোপানী যেতে হয়।

 * যাত্রাপথ: গদখালি বা সোনাখালি থেকে লঞ্চে করে সজনেখালি হয়ে এখানে পৌঁছানো যায়। সজনেখালি থেকে নেতিধোপানী যেতে সময় লাগে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা (জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল)।

সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels

Mob: +91 9832411997

Google Maps

Scroll to Top