পাখিরালয়

সুন্দরবনের পাখিরালয় (সজনেখালি পাখি অভয়ারণ্য) প্রকৃতিপ্রেমী এবং পক্ষীবিদদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। এটি মূলত সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার এবং পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র।

১. প্রধান আকর্ষণসমূহ

পাখিরালয়ে শুধু পাখি নয়, দেখার মতো আরও অনেক কিছু আছে:

 * সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার: এখান থেকেই মূলত বনের বিস্তীর্ণ অংশ এবং বাঘ বা হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 * ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার: সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র এবং বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জানার জন্য এটি একটি ছোট মিউজিয়াম।

 * বনবিবির মন্দির: স্থানীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 * কুমির ও কচ্ছপ পুকুর: এখানে নোনা জলের কুমির এবং বিলুপ্তপ্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ সংরক্ষণ করা হয়।

২. পাখির বৈচিত্র্য

পাখিরালয়ে দেশি ও বিদেশি প্রচুর প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বিশেষ করে শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) এদের আনাগোনা বাড়ে:

 * কিংফিশার (মাছরাঙা) – প্রায় ৭-৮ রকমের।

 * ব্রাহ্মিণী কাইট (শঙ্খচিল)।

 * সাদা পেটের সামুদ্রিক ইগল।

 * হুইশলিং ডাক (সরাল)।

 * বিভিন্ন প্রজাতির বক ও প্লোভার। 

Pakhiralay sundarban
Pakhiralay sundarban

৩. ভ্রমণ পরিকল্পনা (ITINERARY)

১ম দিন:- গদখালি অথবা সোনাখালি থেকে লঞ্চে উঠে পাখিরালয় পৌঁছানো। দুপুরের খাবার শেষে সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার ভ্রমণ। 

 ২য় দিন:- খুব ভোরে নৌকায় করে ‘সুধন্যখালি’ , ‘দোবাঁকি’ ওয়াচ টাওয়ার বা ঝড়খালির উদ্দেশ্যে যাত্রা। সন্ধ্যার আগে পাখিরালয়ে ফেরা।

 ৩য় দিন:- সকালে স্থানীয় গ্রাম ও নদী ভ্রমণ সেরে দুপুরের পর গদখালির অথবা সোনাখালির উদ্দেশ্যে রওনা।

৪. থাকার ব্যবস্থা (Accommodation)

পাখিরালয় এলাকায় থাকার জন্য মূলত তিনটি মাধ্যম রয়েছে:

সরকারি লজ (WBTDCL): সজনেখালিতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব ট্যুরিস্ট লজ আছে। এটি সরাসরি বনের ভেতরে বা একদম কাছে থাকার জন্য সেরা জায়গা।

বেসরকারি রিসোর্ট: পাখিরালয় গ্রামজুড়ে প্রচুর ছোট-বড় রিসোর্ট এবং কটেজ রয়েছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী (১,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা প্রতি রাত) এসি বা নন-এসি রুম বেছে নিতে পারেন।

বোট হাউস (Launch): অনেক পর্যটক প্যাকেজ ট্যুরে এসে রাতে রিসোর্টে না থেকে বড় লঞ্চ বা নৌকায় থাকতে পছন্দ করেন। এটি একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

Pakhiralay sundarban
Pakhiralay sundarban

৫. খাওয়ার ব্যবস্থা (Dining)

সুন্দরবনের খাবার সাধারণত বেশ টাটকা এবং স্থানীয় স্বাদের হয়।

মেনু: বেশিরভাগ রিসোর্ট বা বোট হাউসে প্যাকেজ সিস্টেম থাকে। এখানে সাধারণত ভাত, ডাল, ভাজা, সবজি, এবং স্থানীয় নদীর টাটকা মাছ (পার্শে, ট্যাংরা, ভেটকি) পরিবেশন করা হয়।

বিশেষ আকর্ষণ: সুন্দরবনের বিখ্যাত কাঁকড়া (Crab curry) এবং দেশি মুরগির ঝোল এখানকার বিশেষত্ব। এছাড়া শীতকালে গেলে টাটকা খেঁজুরের রস বা পিঠে-পুলিও মিলতে পারে।

পরিচ্ছন্নতা: স্থানীয় হোটেলগুলোতে খাবারের মান ঘরোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

৬. জরুরি টিপস

 * পারমিট: সজনেখালি থেকেই সুন্দরবনে ঢোকার সরকারি পারমিট নিতে হয়। আপনার ট্যুর অপারেটর বা লঞ্চের সারেং সাধারণত এটি করিয়ে দেন।

 * পোশাক: বনের সাথে মানানসই জলপাই (Olive) বা খাকি রঙের পোশাক পরা ভালো। উজ্জ্বল লাল বা হলুদ রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

 * সাবধানতা: প্লাস্টিক বর্জন করুন। বনে উচ্চশব্দে গান বাজাবেন না।

Pakhiralay sundarban

কিভাবে এখানে আসবেন

পাখিরালয় পৌঁছানোর জন্য আপনাকে প্রথমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গদখালি অথবা সোনাখালি পৌঁছাতে হবে।

 * কলকাতা থেকে: শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে ক্যানিং স্টেশন। সেখান থেকে অটো বা ম্যাজিকে করে গদখালি অথবা সোনাখালি খেয়াঘাট।

 * জলপথ: গদখালি অথবা সোনাখালি থেকে লঞ্চ বা ভুটভুটি ভাড়া করে পাখিরালয় (সজনেখালি) পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা।

সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels

Mob: +91 9832411997

Google Maps

Scroll to Top