পূর্বস্থলী পাখিরালয় (চুপি)
পূর্বস্থলীর পাখিরালয় আসলে চুপির চর বা চুপি কাষ্ঠশালী পাখিরালয় নামেই বেশি পরিচিত। এটি পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ব্লকে অবস্থিত।
🕊️ পূর্বস্থলীর চুপির চর হলো গঙ্গার একটি অশ্বক্ষুরাকৃতি (Oxbow) হ্রদ, যা শীতকালে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির অস্থায়ী বাসস্থান হয়ে ওঠে। পাখিপ্রেমী এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি কলকাতার কাছে একটি দারুণ উইকেন্ড ডেস্টিনেশন বা একদিনের ভ্রমণের স্থান।
🐦 কেন যাবেন?
* পরিযায়ী পাখির সমাগম: প্রধানত শীতকালে (নভেম্বর থেকে মার্চ) দূর-দূরান্ত থেকে নানা ধরনের পরিযায়ী পাখি আসে। এটিই পাখি দেখার সেরা সময়। গরমকালে পাখির সংখ্যা অনেক কম থাকে।
* নৌকা ভ্রমণ: এই হ্রদে মোটরবিহীন দাঁড়-টানা নৌকায় ঘুরে ঘুরে পাখি দেখার অভিজ্ঞতা খুবই মনোরম। মাঝিরাই গাইড হিসেবে পাখিদের চিনিয়ে দিতে সাহায্য করেন।
* প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: গঙ্গার পুরনো এই জলপথটি আশেপাশের গ্রাম এবং সবুজের সঙ্গে মিলে এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে।
🕘 পাখি দেখার সেরা সময়
* সেরা মাস: ডিসেম্বর, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি। এই সময়েই পরিযায়ী পাখির আনাগোনা সবচেয়ে বেশি হয়।
* সেরা সময় (দিনের): পাখি দেখার জন্য খুব ভোর (সকাল ৬:০০-৯:০০) এবং বিকেলের শেষ ভাগ (বিকাল ৩:৩০-৫:০০) সবচেয়ে ভালো।
🛶 প্রধান আকর্ষণ: নৌকা বিহার
* নৌকা ভাড়া: ঘাটে নৌকা পাওয়া যায়। ভাড়া সাধারণত প্রতি ঘণ্টা ১৫০/- থেকে ৩০০/- টাকার মধ্যে হতে পারে (সময় ও দর কষাকষির ওপর নির্ভরশীল)।
* সময়: ভালোভাবে পাখি দেখতে এবং হ্রদের ভেতরের দিকে যেতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় নিয়ে নৌকা ভাড়া করা ভালো।
* বিশেষত্ব: এখানকার নৌকাগুলিতে বিরক্তিকর মোটর লাগানো নেই। মাঝিরা দাঁড় টেনে নৌকা চালান, ফলে পাখিদের কোনো অসুবিধা হয় না।
🏡 থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
* আপনি চাইলে একদিনের জন্য গিয়েও ফিরে আসতে পারেন। তবে ভোরবেলা পাখি দেখার জন্য রাতে থাকা ভালো।
* আবাসন:
* চুপির চরের পাশেই পঞ্চায়েত সমিতির পরিযায়ী আবাস রয়েছে।
* এছাড়া হ্রদের ধারেই কিছু বেসরকারি কটেজ/রিসর্ট তৈরি হয়েছে, যেমন ‘চুপি কাষ্ঠশালী পাখিরালয়’। এগুলিতে গার্ডেন কটেজ বা ম্যাঙ্গো অর্চার্ড কটেজের মতো থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
* খাবার: থাকার জায়গাগুলিতে সাধারণত খাবারের ব্যবস্থা থাকে। এছাড়া স্টেশনের কাছাকাছি বা স্থানীয় দোকানগুলিতে সাধারণ খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়।
📸 কী কী সঙ্গে রাখবেন?
* দূরবীন (Binoculars): পাখি ভালোভাবে দেখার জন্য এটি অপরিহার্য।
* ক্যামেরা: পাখিদের ছবি তোলার জন্য টেলিফটো লেন্স সহ ক্যামেরা নিতে পারেন।
* হালকা গরম জামাকাপড়: শীতকালে ভোরবেলা বেশ ঠান্ডা থাকে, তাই হালকা গরম কাপড় আবশ্যক।
* জল ও স্ন্যাকস: নৌকা ভ্রমণের জন্য সঙ্গে রাখতে পারেন।
🛑 কয়েকটি বিশেষ অনুরোধ
* পাখিরালয় হলো একটি সংরক্ষিত পরিবেশ। শব্দদূষণ এবং পরিবেশ দূষণ এড়িয়ে চলুন।
* নৌকা ভ্রমণে কোনোভাবেই উচ্চস্বরে আওয়াজ করা বা পাখিদের বিরক্ত করা উচিত নয়।
* পরিযায়ী পাখিদের আবাসস্থলকে পরিচ্ছন্ন রাখুন।
পূর্বস্থলী পাখিরালয় (চুপির চর) ভ্রমণ আপনার কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
ট্রেনে:
* গন্তব্য: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে কাটোয়াগামী লোকাল ট্রেনে উঠুন।
* নামতে হবে: পূর্বস্থলী স্টেশনে। সময় লাগবে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা।
* স্টেশন থেকে: পূর্বস্থলী স্টেশন থেকে টোটো বা অটো ভাড়া করে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে চুপির চর বা কাষ্ঠশালী গ্রামে পৌঁছাতে পারবেন। জনপ্রতি ভাড়া সাধারণত ২০/- টাকা মতো হয়ে থাকে।
সড়ক পথে (নিজস্ব গাড়িতে):
* পথ: কলকাতা থেকে ব্যারাকপুর/কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু পেরিয়ে ত্রিবেণী যান। এরপর এস.টি.কে.কে (STKK সপ্তগ্রাম-ত্রিবেণী-কালনা-কাটোয়া) রোড ধরে কালনা, ধাত্রীগ্রাম, সমুদ্রগড় হয়ে পূর্বস্থলী পৌঁছান।
* সময়: দূরত্ব প্রায় ১২০-১৩০ কিলোমিটার। ট্রাফিকের ওপর নির্ভর করে সময় লাগবে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ ঘণ্টা।
