শোভাবাজার রাজবাড়ি

🧭 শোভাবাজার রাজবাড়ি:

শোভাবাজার রাজবাড়ি কলকাতার অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলির মধ্যে একটি, যা উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যকে বহন করে। এই রাজবাড়িটি মূলত রাজা নবকৃষ্ণ দেব দ্বারা ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর নির্মিত হয়েছিল। এটি পুরোনো কলকাতার স্থাপত্যরীতি এবং ঐতিহাসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

🏛️ রাজবাড়ির প্রধান আকর্ষণ এবং ইতিহাস

 * প্রতিষ্ঠাতা ও ইতিহাস: রাজা নবকৃষ্ণ দেব এই রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন এবং ১৭৫৭ সাল থেকে এখানে দুর্গাপূজা শুরু করেন, যা কলকাতা শহরের অন্যতম পুরোনো দুর্গাপূজা। এই পূজাকে অনেকে পলাশীর যুদ্ধের বিজয়োৎসব হিসেবেও মনে করেন।

 * দুই রাজবাড়ি (বড় তরফ ও ছোট তরফ): রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সম্পত্তি ভাগাভাগির ফলে রাজবাড়িটি দুটি অংশে বিভক্ত হয়:

   * বড় তরফ: প্রথম নির্মিত বাড়িটি, যা রাজা নবকৃষ্ণ দেবের দত্তক পুত্র গোপীমোহন দেবের ছেলে রাধাকান্ত দেবের অংশ।

   * ছোট তরফ: পরে নির্মিত নতুন বাড়িটি, যা রাজা নবকৃষ্ণ দেবের নিজ পুত্র রাজকৃষ্ণ দেবের অংশ। দুটি বাড়িতেই আলাদাভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।

 * দুর্গাপূজা: শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপূজা এর প্রধান আকর্ষণ। এটি তার ঐতিহ্য, সাবেকি রীতিনীতি এবং একচালার ডাকের সাজের প্রতিমার জন্য বিখ্যাত। এই সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে বহু দর্শনার্থীর সমাগম হয়। আগেকার দিনে ক্লাইভ এবং অন্যান্য ইংরেজ গণ্যমান্য অতিথিরা এখানে নিমন্ত্রিত হতেন।

 * স্থাপত্য ও নাট মন্দির: রাজবাড়ির স্থাপত্যে পুরোনো কলকাতার ছাপ স্পষ্ট। এখানে একটি নাট মন্দিরও রয়েছে, যেখানে একসময় থিয়েটার ও নাট্যচর্চা হত। ১৮৪৪ সালে রাজা রাধাকান্ত দেবের উদ্যোগে এখানে থিয়েটার মঞ্চ তৈরি হয়েছিল।

 * সুতানুটি উৎসব: প্রতি বছর ২৪শে আগস্ট এই রাজবাড়ির প্রাঙ্গণে কলকাতা শহরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সুতানুটি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

💡 ভ্রমণ টিপস

 * ভ্রমণের সেরা সময়: দুর্গাপূজার সময় (সাধারণত সেপ্টেম্বর/অক্টোবর) রাজবাড়ির আসল জৌলুস দেখা যায়, কারণ এই সময় সাধারণের জন্য মূল প্রবেশদ্বার খোলা থাকে এবং বিশেষ অনুষ্ঠান হয়।

 * সাধারণ সময়ে: যেহেতু এটি বর্তমানেও একটি বসবাসযোগ্য ইমারত, তাই সাধারণ সময়ে বা পুজোর বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিতরে প্রবেশাধিকার বা সম্পূর্ণ অংশ দেখার অনুমতি নাও থাকতে পারে। বাইরে থেকে স্থাপত্য দেখা যেতে পারে।

এটি শুধু একটি পুরোনো বাড়ি নয়, উত্তর কলকাতার এক সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি।

কিভাবে এখানে আসবেন

 * মেট্রো: সবচেয়ে সুবিধাজনক হলো শোভাবাজার-সুতানুটি মেট্রো স্টেশন; এখান থেকে হাঁটা পথে দ্রুত পৌঁছানো যায়।

 * বাস ও ট্রাম: কলকাতার প্রধান রুটগুলি থেকে নিয়মিত বাস ও ট্রাম চলাচল করে, যা আপনাকে রাজবাড়ির কাছাকাছি নামিয়ে দেবে।

 * ক্যাব/ট্যাক্সি: শহর বা নিকটবর্তী শিয়ালদহ/হাওড়া স্টেশন থেকে অ্যাপ-ক্যাব বা হলুদ ট্যাক্সিতে সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব।

 * অন্যান্য: স্থানীয় অটো রিকশা ও রিকশা পরিষেবাও কাছাকাছি স্থান থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য সহজে পাওয়া যায়।

Google Maps

Scroll to Top