সোনার গৌরাঙ্গ
নবদ্বীপ ধামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র হলো সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির। এটি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে উৎসর্গীকৃত একটি প্রাচীন মন্দির এবং ভক্তদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার স্থান।
মন্দিরের বিশেষত্ব
* সোনার গৌরাঙ্গ: মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হলো গর্ভগৃহে রূপার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত অষ্টধাতুর শ্রী গৌরাঙ্গ বিগ্রহ, যা সোনার আধিক্যের কারণে ‘সোনার গৌরাঙ্গ’ নামে পরিচিত। প্রতিদিন তাঁকে সোনার কণ্ঠহার এবং সুন্দর ফুল দিয়ে সাজানো হয়।
* ইতিহাস: প্রচলিত আছে যে এই বিগ্রহটি শান্তিপুরের শিল্পী ব্রজদুলাল দাস নির্মাণ করেছিলেন। এটি নিত্যানন্দ প্রভুর বংশধর প্রয়াত শীল প্রতাপ চন্দ্র গোস্বামী প্রতিষ্ঠা করেন।
* মহাপ্রভুর পাদুকা: অনেকের মতে, এই মন্দিরে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর ব্যবহৃত পাদুকা (খড়ম) রাখা আছে, যা ভক্তদের জন্য আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ।
* অবস্থান: মন্দিরটি শ্রীবাস অঙ্গন এবং শ্রী সমাজ বাড়ী আশ্রমের কাছেই অবস্থিত।
নবদ্বীপ ভ্রমণ এবং সোনার গৌরাঙ্গ দর্শন
নবদ্বীপ পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান, যা শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান। নবদ্বীপের ভ্রমণ মূলত বিভিন্ন মন্দির ও বৈষ্ণবস্থান পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে।
* সময়: সাধারণত দিনের বেলায় মন্দির খোলা থাকে। তবে দুপুরে (প্রায় দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত) অনেক মন্দিরই বন্ধ থাকে। তাই ভ্রমণের আগে সময় জেনে নেওয়া ভালো। সন্ধ্যায় আবার মন্দির খোলে।
* ভ্রমণ পদ্ধতি: নবদ্বীপ ধাম রেল স্টেশন বা ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে টোটো/রিকশা/ভ্যান ভাড়া করে পুরো নবদ্বীপ শহর ঘুরে দেখা যায়। টোটো চালকদের সাথে কথা বলে আপনি সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির সহ অন্যান্য প্রধান মন্দিরগুলি ঘুরে দেখতে পারেন।
* অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি নবদ্বীপে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে, যেমন:
* ধামেশ্বর শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দির
* শ্রীবাস অঙ্গন
* শ্রী জগাই মাধাই মন্দির
* শচীমাতা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মন্দির
* ষাট ফুটের মহাপ্রভুর মূর্তি
* পোড়ামাতলা (কালী মন্দির)
মনে রাখবেন
* মন্দিরের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য ভেতরে ছবি তোলা সাধারণত নিষেধ থাকে।
* দোল পূর্ণিমার সময় এখানে বিশেষ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
* নবদ্বীপের ক্ষীর দই এবং কাঁসা-পিতলের বাজার বিখ্যাত। আপনি চাইলে সেগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন।
নবদ্বীপ একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং শান্তিময় স্থানের জন্য পরিচিত, যেখানে ভক্তরা অত্যন্ত ভক্তি সহকারে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাক্ষেত্র দর্শন
করতে আসেন।
Google Maps
কিভাবে এখানে আসবেন
১. ট্রেন পথে
ট্রেন হলো কলকাতা থেকে নবদ্বীপ যাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত মাধ্যম।
নিয়মিত লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন এই পথে চলে।
২. সড়ক পথে (বাস ও গাড়ি)
সড়ক পথেও কলকাতা থেকে নবদ্বীপ পৌঁছানো যায়। দূরত্ব প্রায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার।
* বাস: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড) থেকে সরাসরি নবদ্বীপ ধামের উদ্দেশ্যে সরকারি এবং বেসরকারি বাস পাওয়া যায়। এটি অপেক্ষাকৃত সময়সাপেক্ষ (প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা), তবে সরাসরি যাতায়াত করা যায়।
* ব্যক্তিগত গাড়ি/ট্যাক্সি: ব্যক্তিগত গাড়িতে গেলে NH12 (পুরাতন NH34) ধরে কৃষ্ণনগর হয়ে নবদ্বীপ যাওয়া যায়। এতে সময় লাগে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা।
৩. নবদ্বীপ ধামে পৌঁছানোর পর
নবদ্বীপ ধাম স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ডে নামার পর স্থানীয় যানবাহনে সোনার গৌরাঙ্গ মন্দিরে যেতে হবে:
* স্থানীয় পরিবহন: স্টেশনের বাইরে বা বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি প্রচুর টোটো/রিকশা পাওয়া যায়।
* গন্তব্য: টোটো চালকদের “সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির” বা “শ্রীবাস অঙ্গন” বললে তারা আপনাকে মন্দিরের কাছে পৌঁছে দেবে।
