সুধন্যখালি ক্যাম্প
সুন্দরবনের অন্যতম রোমাঞ্চকর এবং জনপ্রিয় একটি পর্যটন কেন্দ্র হলো সুধন্যখালি ওয়াচ টাওয়ার। এটি ব্যাঘ্র প্রকল্পের (Tiger Reserve) অন্তর্গত এবং বাঘ দেখার জন্য পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় জায়গা।
১. সুধন্যখালি কেন বিখ্যাত ?
সুধন্যখালি মূলত তার ওয়াচ টাওয়ারের জন্য বিখ্যাত। এখান থেকে সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল এবং বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ সবথেকে বেশি থাকে।
* মিষ্টি জলের পুকুর: ওয়াচ টাওয়ারের ঠিক সামনেই একটি মিষ্টি জলের পুকুর আছে। বনের পশুপাখিরা (বিশেষ করে হরিণ এবং বাঘ) তৃষ্ণা মেটাতে এখানে আসে।
* ম্যানগ্রোভ বন: এখান থেকে সুন্দরী, গরান এবং গেঁওয়া গাছের ঘন জঙ্গল খুব কাছ থেকে দেখা যায়।
* বন্যপ্রাণী: ভাগ্য ভালো থাকলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও চিত্রল হরিণ, বুনো শুয়োর, বড় মাপের মনিটর লিজার্ড (গুইসাপ) এবং হরেক রকমের পাখি দেখা যায়।
২. প্রবেশমূল্য ও অনুমতি (Permit)
* সুধন্যখালি প্রবেশের জন্য সজনেখালি ফরেস্ট অফিস থেকে পর্যটন অনুমতি বা পারমিট নিতে হয়।
* মাথাপিছু প্রবেশমূল্য এবং নৌকার জন্য আলাদা চার্জ দিতে হয় (এটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তনশীল)।
* পরিচয়পত্র (আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড) সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
৩. ভ্রমণের সেরা সময়
* শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): এটিই ঘোরার সেরা সময়। আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে এবং পশুপাখি দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।
* ভোর বা বিকেল: বাঘ বা হরিণ দেখার জন্য খুব সকাল অথবা বিকেলের দিকে ওয়াচ টাওয়ারে থাকা সবথেকে ভালো।
৪. গুরুত্বপূর্ণ টিপস
* নিরবতা বজায় রাখুন: ওয়াচ টাওয়ারে কথা বলার সময় খুব নিচু স্বরে কথা বলুন। শব্দ হলে বন্যপ্রাণীরা পুকুরের ধারে আসে না।
* পোশাকের রঙ: বনের সাথে মানানসই রঙের পোশাক (যেমন- অলিভ গ্রিন, খাকি বা হালকা বাদামী) পরার চেষ্টা করুন। উজ্জ্বল রঙ এড়িয়ে চলাই ভালো।
* প্লাস্টিক বর্জন: সুন্দরবন একটি হেরিটেজ সাইট, তাই প্লাস্টিক বা ময়লা জঙ্গলে ফেলবেন না।
* বাইনোকুলার: সাথে একটি ভালো বাইনোকুলার রাখুন, যাতে দূরের দৃশ্য পরিষ্কার দেখতে পান।
কিভাবে এখানে আসবেন
সুধন্যখালি যাওয়ার একমাত্র পথ হলো জলপথ।
* যাত্রা শুরু: সাধারণত পর্যটকরা সজনেখালি বা গদখালি থেকে লঞ্চ বা ভুটভুটি ভাড়া করে এখানে আসেন।
* সময়: সজনেখালি থেকে সুধন্যখালি পৌঁছাতে জলপথে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগে।
সুন্দরবন প্যাকেজ ট্যুর অপারেটর

R.S Tour & Travels
Mob: +91 9832411997
