স্বামী নারায়ণ মন্দির
কলকাতার জোঁকায় অবস্থিত স্বামীনারায়ণ মন্দির (BAPS Shri Swaminarayan Mandir) শহরের অন্যতম সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ দর্শনীয় স্থান। রাজস্থানি চুনাপাথর ও ইতালীয় মার্বেল দিয়ে তৈরি এই মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী দেখার মতো।
১. মন্দির দর্শন ও সময়সূচী
মন্দিরটি মূলত ভগবান স্বামীনারায়ণের প্রতি উৎসর্গ করা। এর শান্ত পরিবেশ এবং নিখুঁত খোদাই করা পাথরের কাজ আপনাকে মুগ্ধ করবে।
* খোলার সময়: প্রতিদিন সকাল ৭:৩০ থেকে দুপুর ১২:০০ এবং বিকেল ৪:০০ থেকে রাত ৮:০০ পর্যন্ত।
* আরতির সময়: সাধারণত সন্ধে ৬:০০ থেকে ৭:০০-এর মধ্যে সন্ধ্যা আরতি হয় (সময় ঋতুভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে)।
* প্রবেশ মূল্য: কোনো প্রবেশ মূল্য নেই।
২. কী কী দেখবেন?
* প্রধান মন্দির: মন্দিরের ভেতরে স্বামীনারায়ণ, রাধা-কৃষ্ণ, এবং সীতা-রামের অপূর্ব মূর্তি রয়েছে।
* স্থাপত্য: মন্দিরের দেয়াল এবং স্তম্ভে হাতে খোদাই করা পৌরাণিক কাহিনী ও নকশা।
* আলোর সাজ: সন্ধ্যার সময় মন্দিরে যখন আলো জ্বলে ওঠে, তখন এটি এক মায়াবী রূপ ধারণ করে।
* উদ্যান: মন্দিরের চারপাশের বাগানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পরিষ্কার।
৩. গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি (টিপস)
* পোশাক: মন্দিরে মার্জিত পোশাক পরে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়।
* ফটোগ্রাফি: মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের ভেতরে ছবি তোলা বা ভিডিও করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে বাইরে থেকে মন্দিরের ছবি তোলা যায়।
* জিনিসপত্র রাখা: জুতো রাখার জন্য নির্দিষ্ট কাউন্টার রয়েছে। ব্যাগ বা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রাখার জন্য ক্লকরুমের সুবিধা আছে।
* খাবার: মন্দিরের ভেতরে ‘প্রেমবতী’ ফুড কোর্ট আছে, যেখানে খুব কম খরচে শুদ্ধ নিরামিষ খাবার ও জলখাবার পাওয়া যায়।
৫. ভ্রমণের সেরা সময়
চেষ্টা করবেন বিকেল ৪টের পর যেতে। এতে আপনি দিনের আলোতে মন্দিরের কারুকার্য দেখতে পাবেন এবং সন্ধ্যার আলোকসজ্জা ও আরতি উপভোগ করে ফিরতে পারবেন।
> বিশেষ দ্রষ্টব্য: মন্দিরের ভেতরে শান্তি বজায় রাখুন এবং মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখুন।
কিভাবে এখানে আসবেন
মন্দিরটি দক্ষিণ কলকাতার ডায়মন্ড হারবার রোডের পাশে জোঁকা (Joka) এলাকায় অবস্থিত।
* বাসে: ধর্মতলা বা দক্ষিণ কলকাতার যেকোনো জায়গা থেকে ‘জোঁকা’ বা ‘আমতলা’ গামী যেকোনো বাসে উঠে ‘স্বামীনারায়ণ মন্দির’ স্টপেজে নামতে হবে।
* মেট্রো: বর্তমানের পার্পল লাইন (Purple Line) মেট্রো করে জোঁকা মেট্রো স্টেশনে নামলে মন্দিরটি খুব কাছেই।
* গাড়িতে: ঠাকুরপুকুর পেরিয়ে জোঁকার দিকে গেলে রাস্তার বাম দিকে বিশাল এই মন্দিরটি চোখে পড়বে।
