হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন
হাওড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশন (HWH) ভারতের অন্যতম ব্যস্ত এবং ঐতিহাসিক রেলওয়ে স্টেশন। এটি হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং কলকাতা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।
১. স্টেশনের গঠন ও প্ল্যাটফর্ম
হাওড়া স্টেশনে মোট ২৩টি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা দুটি প্রধান টার্মিনালে বিভক্ত:
* পুরানো কমপ্লেক্স (Old Complex): প্ল্যাটফর্ম ১ থেকে ১৫ পর্যন্ত। এখান থেকে মূলত পূর্ব রেলওয়ের (Eastern Railway) ট্রেন এবং স্থানীয় লোকাল ট্রেন চলাচল করে।
* নতুন কমপ্লেক্স (New Complex): প্ল্যাটফর্ম ১৭ থেকে ২৩ পর্যন্ত। এখান থেকে প্রধানত দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের (South Eastern Railway) দূরপাল্লার ট্রেনগুলো যাতায়াত করে।
২. স্টেশনের সুযোগ-সুবিধা
* বিশ্রামাগার (Waiting Halls): স্টেশনে সাধারণ এবং এসি (AC) উভয় প্রকারের ওয়েটিং হল রয়েছে।
* খাবার ও পানীয়: এখানে আইআরসিটিসি (IRCTC) ফুড প্লাজা ছাড়াও নামী ব্র্যান্ডের অনেক খাবারের দোকান (যেমন—জন আহার) রয়েছে।
* রিটায়ারিং রুম: যাত্রীদের রাত্রিবাসের জন্য অনলাইনে বা স্টেশনে এসে রিটায়ারিং রুম বুক করার ব্যবস্থা আছে।
* অন্যান্য: এটিএম (ATM), বইয়ের দোকান, ওষুধের দোকান এবং ক্লোক রুম (Cloak Room) বা ব্যাগ রাখার সুব্যবস্থা এখানে বর্তমান।
৩. রেলওয়ে স্টেশনে পর্যটকদের সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা রয়েছে যা আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনায় বেশ কার্যকর হতে পারে:
* পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন সহায়তা কেন্দ্র (West Bengal Tourism Counter):
হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সের প্রধান হল-এ পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের (WBTDCL) একটি ছোট কাউন্টার বা সহায়তা কেন্দ্র থাকে। এখান থেকে আপনি:
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে পারেন।
সরকারি লজ বা ট্যুরিস্ট লজ বুকিংয়ের প্রাথমিক তথ্য পেতে পারেন।
কলকাতা এবং আশেপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ম্যাপ বা লিফলেট সংগ্রহ করতে পারেন।
৪. রেলওয়ে ইনফরমেশন ডেস্ক (Railway Information Desk):
এটি মূলত ট্রেন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য হলেও, স্টেশনের ভেতর দিয়ে যাতায়াত বা প্ল্যাটফর্ম খোঁজার জন্য এখানে পর্যটকরা সাহায্য পান। এখানে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা পাওয়া যায়।
৫. যাত্রী সাথী অফিস (Yatri Sathi Office):
স্টেশন চত্বরে (রেলওয়ে স্টেশন রোড) ‘যাত্রী সাথী’-র একটি অফিস রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধাজনক পরিবহনের জন্য এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি উদ্যোগ, যা ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ক্যাব বুকিংয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখে।
৬. দেখার মতো জায়গা (কাছাকাছি)
* হাওড়া ব্রিজ: স্টেশনের বাইরে বেরোলেই এই বিশাল স্থাপত্যটি চোখে পড়ে।
* রেল মিউজিয়াম: স্টেশনের খুব কাছেই অবস্থিত এই মিউজিয়ামে ভারতীয় রেলের বিবর্তনের ইতিহাস ও পুরনো আমলের ইঞ্জিন দেখা যায়।
* হুগলি নদী: নদীর পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা বা নৌকায় ভ্রমণ একটি দারুণ অভিজ্ঞতা।
৭. ভ্রমণের কিছু টিপস:
* স্টেশনটি অত্যন্ত জনাকীর্ণ, তাই ট্রেন ছাড়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ।
* প্ল্যাটফর্ম নম্বর আগে থেকে চেক করে নিন, কারণ ১ নম্বর থেকে ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দূরত্ব বেশ অনেকটা।
* ভারী মালপত্র থাকলে অনুমোদিত কুলি (লাল পোশাকধারী) নিতে পারেন, তবে আগে থেকে দরদাম করে নেওয়া ভালো।
কিভাবে এখানে আসবেন
* হাওড়া ব্রিজ: কলকাতা শহরের সাথে এই স্টেশনটি বিখ্যাত রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজের মাধ্যমে যুক্ত। বাসে বা ট্যাক্সিতে করে খুব সহজেই ব্রিজ পার হয়ে স্টেশনে পৌঁছানো যায়।
* ফেরি সার্ভিস: হাওড়া স্টেশনের ঠিক পাশেই রয়েছে হাওড়া ফেরি ঘাট। এখান থেকে বাবুঘাট, ফেয়ারলি প্লেস বা শিপিং কর্পোরেশন ঘাটে লঞ্চে করে নদী পার হওয়া যায়, যা যানজট এড়ানোর চমৎকার উপায়।
* মেট্রো রেল: নবনির্মিত ‘হাওড়া ময়দান – এসপ্ল্যানেড’ মেট্রো লাইনের মাধ্যমে এখন খুব দ্রুত স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব। এটি ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন।
* প্রিপেইড ট্যাক্সি ও বাস: স্টেশনের বাইরেই বড় বাস স্ট্যান্ড এবং প্রিপেইড ট্যাক্সি বুথ রয়েছে।
