দিঘা সমুদ্র সৈকত

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে অবস্থিত দিঘা হলো রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মনোরম সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র। এখানে ওল্ড ও নিউ দিঘার ঝাউবন ঘেরা দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের এক অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশ উপহার দেয়। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো সস্তায় টাটকা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ গ্রহণ এবং সৈকতে বসে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখা। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সব বাজেটের হোটেলের সুবিধা থাকায় এটি সপ্তাহান্তের ছুটির জন্য বাঙালির প্রথম পছন্দ। 

দর্শনীয় স্থানসমূহ

দিঘা এখন আর শুধু একটি সৈকতে সীমাবদ্ধ নেই। একে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:

ওল্ড দিঘা (Old Digha)

পুরানো দিঘার মূল আকর্ষণ হলো পাথুরে বাঁধ দেওয়া সমুদ্রতট। এখানে ঢেউয়ের ঝাপটা দেখার আনন্দই আলাদা।

জগন্নাথ ধাম: ওড়িশার পুরীর মন্দিরের আদলে রাজস্থানি বেলেপাথর দিয়ে একটি বিশাল ও নান্দনিক জগন্নাথ ধাম নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৬৫ মিটার উচ্চতার এই মন্দিরটি কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং দিঘার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন ও পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। সমুদ্র সৈকতের খুব কাছেই অবস্থিত এই মন্দিরটি পর্যটকদের আধ্যাত্মিক শান্তি

এবং রাজকীয় পরিবেশের এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

বিশ্ববাংলা উদ্যান: সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা দেখার জন্য এটি উপযুক্ত।

কেনাকাটা: ঝিনুকের হস্তশিল্প ও ঘর সাজানোর জিনিসের জন্য এখানকার মার্কেট খুব জনপ্রিয়।

নিউ দিঘা (New Digha)

এটি ওল্ড দিঘা থেকে ২ কিমি দূরে। স্নান করার জন্য নিউ দিঘার বালুকাময় সমুদ্রতট আদর্শ।

অ্যামিউজমেন্ট পার্ক: বাচ্চাদের জন্য একাধিক ছোট পার্ক রয়েছে।

 সায়েন্স সিটি ও মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম: সামুদ্রিক মাছ এবং জীববৈচিত্র্য দেখার জন্য এটি অবশ্যই দর্শনীয়।

 দিঘার আশেপাশে

 উদয়পুর সমুদ্র সৈকত: দিঘা থেকে মাত্র ৩ কিমি দূরে ওড়িশা সীমান্তে অবস্থিত এক শান্ত ও নির্জন সৈকত।

 তালসারি ও চন্দনেশ্বর মন্দির: ওড়িশার অন্তর্গত এই শান্ত সৈকত ও বিখ্যাত শিব মন্দির দিঘা থেকে টোটো বা অটোতে সহজেই যাওয়া যায়।

 শংকরপুর ও মন্দারমণি: হাতে সময় থাকলে একদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন।

দিঘায় খাওয়া-দাওয়া

দিঘা হলো ভোজনরসিকদের স্বর্গরাজ্য।

 সি-ফুড: বিচে সারিবদ্ধ দোকানে টাটকা কাঁকড়া, চিংড়ি, পমফ্রেট এবং ভেটকি মাছের ফ্রাই বা রোস্ট পাওয়া যায়।

 বাঙালি থালি: অসংখ্য হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সস্তায় মাছ-ভাতের থালি পাওয়া যায়।

থাকার সুবিধা

বাজেট অনুযায়ী দিঘায় থাকার জন্য প্রচুর অপশন রয়েছে:

 সরকারি গেস্ট হাউস: পর্যটন দপ্তরের ‘টুরিস্ট লজ’ বা ‘দিঘাস্রী’ (Dighashree)।

 বেসরকারি হোটেল: ওল্ড ও নিউ দিঘা মিলিয়ে ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা বা তার বেশি দামের লাক্সারি রিসোর্ট রয়েছে।

ভ্রমণের সেরা সময়

 শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি): ভ্রমণের জন্য সবথেকে আরামদায়ক সময়।

 বর্ষাকাল (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর): যারা সমুদ্রের উত্তাল রূপ দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেরা। তবে স্নান করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

কিছু প্রয়োজনীয় টিপস

  * সমুদ্রে জোয়ার-ভাটার সময় খেয়াল রেখে স্নান করবেন।

  * সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে (শনি ও রবি) প্রচুর ভিড় হয়, তাই আগেভাগে হোটেল বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

  * কাঁজু বাদাম এবং শৌখিন ঝিনুকের জিনিস কিনতে ভুলবেন না।

কিভাবে এখানে আসবেন

কলকাতা থেকে দিঘা যাওয়ার তিনটি প্রধান পথ রয়েছে:

 ট্রেনে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, কাণ্ডারি এক্সপ্রেস বা দিঘা লোকাল ধরে সরাসরি দিঘা পৌঁছানো যায়। সময় লাগে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ ঘণ্টা।

 বাসে: ধর্মতলা (এসপ্ল্যানেড), করুণাময়ী বা হাওড়া থেকে সরকারি (SBSTC/WBTC) এবং বেসরকারি এসি/নন-এসি বাস সারাদিন পাওয়া যায়।

 গাড়িতে: কলকাতা থেকে দিঘার দূরত্ব প্রায় ১৮৩ কিমি। কোলাঘাট ও নন্দকুমার হয়ে নিজস্ব গাড়িতে আসতে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

Google Maps

Scroll to Top