হাটনগর শিব মন্দির

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমার পাশকুঁড়া ব্লকে অবস্থিত হাটনগর শিব মন্দির এই অঞ্চলের এক অতি প্রাচীন এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান। কংসাবতী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে পর্যটক এবং ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

মন্দিরের ইতিহাস ও স্থাপত্য

 স্থাপত্য শৈলী: হাটনগর শিব মন্দির মূলত বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘চালা’ স্থাপত্য রীতির অনুসারী। এটি একটি আটচালা মন্দির। মন্দিরের গায়ে থাকা টেরাকোটার কাজ এবং এর গঠনশৈলী আপনাকে বাংলার প্রাচীন শিল্পকলার কথা মনে করিয়ে দেবে।

 বিগ্রহ: এখানে ভগবান শিবের এক বিশাল লিঙ্গ বিগ্রহ অধিষ্ঠিত। জনশ্রুতি আছে যে, এই শিবলিঙ্গটি স্বয়ম্ভূ (অর্থাৎ নিজে থেকেই আবির্ভূত)।

হাটনগর শিব মন্দির hatnagar shiv mandir egra

দর্শনীয় দিক ও উৎসব

 শান্ত পরিবেশ: কংসাবতী নদীর পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় মন্দিরের চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম ও শান্ত। যারা কোলাহল মুক্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ।

 গাজন ও শিবরাত্রি: এখানে শিবরাত্রি এবং চৈত্র সংক্রান্তির সময় গাজন উৎসব অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। এই সময় মেলা বসে এবং বহু মানুষের সমাগম ঘটে।

ভ্রমণের সেরা সময়

সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস অর্থাৎ শীতকালীন সময় ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। এছাড়া শিবরাত্রি বা গাজনের সময় গেলে এখানকার লোকসংস্কৃতি ও ধর্মীয় উদ্দীপনা অনুভব করা যায়।

হাটনগর শিব মন্দির hatnagar shiv mandir egra

কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

আপনি যদি একদিনের ভ্রমণে বের হন, তবে হাটনগর শিব মন্দিরের সাথে নিচের জায়গাগুলোও দেখে নিতে পারেন:

 1. তমলুক (তাম্রলিপ্ত): বর্গভীমা মন্দির এবং রূপনারায়ণ নদীর তীরের সৌন্দর্য।

 2. ক্ষীরপাই ও রাধানগর: কাছাকাছি ঐতিহাসিক গ্রাম যেখানে পুরনো দিনের মন্দির ও কুটির শিল্প দেখা যায়।

পরামর্শ: মন্দিরের ভেতরে প্রবেশের জন্য পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা বাঞ্ছনীয়। দুপুরের দিকে মন্দির বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকে, তাই চেষ্টা করবেন সকাল সকাল বা বিকেলের দিকে যেতে।

হাটনগর শিব মন্দির hatnagar shiv mandir egra

কিভাবে এখানে আসবেন

 ট্রেনে: হাওড়া থেকে খড়গপুরগামী লোকালে উঠে পাশকুঁড়া (Panskura) স্টেশনে নামতে হবে। স্টেশন থেকে মন্দিরটির দূরত্ব খুব বেশি নয়। স্টেশন থেকে টোটো বা অটো করে সহজেই মন্দিরে পৌঁছানো যায়।

 সড়কপথে: কলকাতা থেকে কোলাঘাট হয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে পাশকুঁড়া পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে স্থানীয় রাস্তা ধরে হাটনগর গ্রামে মন্দিরটির অবস্থান।

Google Maps

Scroll to Top