সাঁপনিখলা বন

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকে অবস্থিত সাঁপনিখলা বন (Sap Nikla Forest) উত্তরবঙ্গের এক অফবিট এবং শান্ত পর্যটন কেন্দ্র। যারা শিলিগুড়ির খুব কাছে থেকেও ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে একটু নির্জনে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা।

১. বনের বৈশিষ্ট্য

সাঁপনিখলা মূলত একটি সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন যা একটি বিশাল লেক বা দিঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। শিলিগুড়ির মহানন্দা অভয়ারণ্যের ছোঁয়া এখানে পাওয়া যায়। শাল, সেগুন এবং বিভিন্ন নাম না জানা গাছের ঘন ছায়ায় ঘেরা এই বনটি পক্ষীপ্রেমীদের জন্য স্বর্গরাজ্য। শীতকালে এখানে প্রচুর পরিযায়ী পাখি আসে।

২. কী কী দেখবেন?

 সাঁপনিখলা লেক: বনের মাঝখানে থাকা এই বিশাল দিঘিটি মূল আকর্ষণ। এখানে নৌবিহার (Boating) করার ব্যবস্থা রয়েছে।

 প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ: বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি এবং পাখি দেখতে পাবেন।

সাঁপনিখলা বন (Sap Nikla Forest) north dinajpur

পিকনিক স্পট: এখানে সুন্দরভাবে সাজানো পিকনিক স্পট রয়েছে, তাই শীতকালে সপরিবারে বা বন্ধুদের সাথে চড়ুইভাতি করতে অনেকেই এখানে আসেন।

 চায়ের বাগান: বনের পাশেই বেশ কিছু সুন্দর চা বাগান রয়েছে, যা আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

৩. থাকার ব্যবস্থা

সাঁপনিখলায় থাকার জন্য খুব বিলাসবহুল হোটেল নেই, তবে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম (WBFDC) বা পঞ্চায়েত সমিতির একটি ইকো রিসোর্ট বা বাংলো রয়েছে। পর্যটকরা সাধারণত শিলিগুড়ি থেকে দিন-ভ্রমণ (Day trip) হিসেবে এখানে আসেন। যদি থাকতে চান, তবে আগে থেকে বুকিং করে আসা ভালো।

সাঁপনিখলা বন (Sap Nikla Forest) north dinajpur

৪. ভ্রমণের সেরা সময়

 শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি): এটিই সেরা সময়। আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং লেকে পরিযায়ী পাখি দেখা যায়।

 বর্ষাকাল: বন এলাকা হওয়ায় বর্ষায় প্রকৃতি খুব সবুজ থাকে, তবে জোঁকের উপদ্রব এবং কাদা হতে পারে।

৫. কিছু প্রয়োজনীয় টিপস:

 * বনে প্লাস্টিক বা নোংরা ফেলবেন না, এটি একটি সংরক্ষিত এলাকা।

 * বিকেলের দিকে মশার উপদ্রব হতে পারে, তাই সাথে প্রয়োজনীয় ক্রিম বা ফুলহাতা পোশাক রাখা ভালো।

 * বনের ভেতরে খাবারের দোকান সীমিত, তাই হালকা শুকনো খাবার এবং জল সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সাঁপনিখলা বন (Sap Nikla Forest) north dinajpur

কিভাবে এখানে আসবেন

সাঁপনিখলা শিলিগুড়ি এবং ইসলামপুরের মাঝখানে অবস্থিত।

 সড়কপথ: শিলিগুড়ি থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩০-৩৫ কিমি। শিলিগুড়ি থেকে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ঘোষপুকুর হয়ে ফুলবাড়ি-ঘোষপুকুর বাইপাস দিয়ে এগোলে চোপড়া ব্লকের কাছেই এই বন। আপনি নিজের গাড়ি বা ভাড়ার গাড়িতে সহজেই পৌঁছাতে পারেন।

 ট্রেনপথ: নিকটবর্তী বড় স্টেশন হলো নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে ১ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায়।

Google Maps

Scroll to Top