বাণগড়

দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে অবস্থিত বাণগড় বাংলার ইতিহাসের এক অমূল্য ভাণ্ডার। 

বাণগড়: ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল 

প্রাচীনকালে ‘কোটিবর্ষ’ বা ‘দেবকোট’ নামে পরিচিত এই শহরটি ছিল পুণ্ড্রবর্ধন ভুক্তির প্রশাসনিক কেন্দ্র। মৌর্য, শুঙ্গ, কুষাণ, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগের এক নিরবচ্ছিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী এই এলাকাটি পুনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত।

কী কী দেখবেন?

 প্রত্নতাত্ত্বিক খননস্থল (Excavation Site): এখানে খননকার্যের ফলে বেরিয়ে আসা প্রাচীন শহরের রাস্তা, নর্দমা, পোড়ামাটির অলঙ্করণ এবং মন্দির বা প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

শিববাড়ী: উত্তর কোণে অবস্থিত বিরূপাক্ষ শিবের মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। শিবরাত্রির সময় এখানে বড় মেলা বসে।

 কালো গ্রানাইট স্তম্ভ: এখানে চারটি বড় গ্রানাইট স্তম্ভ রয়েছে, যেগুলি প্রাচীন বিষ্ণু মন্দিরের অংশ বলে মনে করা হয়।

 বখতিয়ার খলজির সমাধি: কথিত আছে, বাংলার প্রথম তুর্কি বিজেতা ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির সমাধি বাণগড়েই অবস্থিত।

 ধলদীঘি ও কালদীঘি: বাণগড় থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে গঙ্গারামপুরে অবস্থিত এই বিশাল দুটি দিঘি। পাল যুগের স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে এগুলি বিখ্যাত। ধলদীঘির পাড়ে আতাশ ফকিরের দরগাও দর্শনীয়।

 নিকটবর্তী শহর: বালুরঘাট (৪৫ কিমি) এবং মালদা (৭৫ কিমি)।

জরুরি তথ্য

 থাকার জায়গা: থাকার জন্য গঙ্গারামপুরে সাধারণ লজ বা বালুরঘাটে ভালো মানের হোটেল পাওয়া যায়। এছাড়া বনিয়াদপুর বা বালুরঘাটে সরকারি বাংলোও আছে।

 সেরা সময়: শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) ঘোরার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।

 কাছের আকর্ষণ: বোল্লা কালী মন্দির (গঙ্গারামপুর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে)।

কিভাবে এখানে আসবেন

ট্রেনে: শিয়ালদহ থেকে তেভাগা এক্সপ্রেস বা গৌড় এক্সপ্রেসে বালুরঘাট বা বনিয়াদপুর স্টেশনে নামতে পারেন। সেখান থেকে বাস বা অটোতে করে গঙ্গারামপুর হয়ে বাণগড় যাওয়া যায়।

 বাসে: কলকাতা বা শিলিগুড়ি থেকে বালুরঘাটগামী বাসে উঠে গঙ্গারামপুর চৌপথি মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে বাণগড় মাত্র ২-৩ কিমি দূরে।

Google Maps

Scroll to Top