তাজপুর সমুদ্র সৈকত
তাজপুর বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শান্ত একটি সমুদ্র সৈকত। দীঘা বা মন্দারমণির ভিড় এড়িয়ে যারা কিছুটা নির্জনে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য তাজপুর আদর্শ।
তাজপুর কেন বিশেষ?
তাজপুর মূলত পরিচিত তার লাল কাঁকড়ার জন্য। সমুদ্রতট জুড়ে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার বিচরণ এক অদ্ভুত দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এছাড়া এখানকার সমুদ্র সৈকতটি বেশ প্রশস্ত এবং ঝাউবনে ঘেরা, যা ফটোগ্রাফির জন্য দারুণ।
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
তাজপুরে থাকার জন্য সৈকতের খুব কাছেই বেশ কিছু সুন্দর রিসোর্ট এবং হোটেল রয়েছে। অধিকাংশ রিসোর্টই ইকো-ট্যুরিজমের কথা মাথায় রেখে তৈরি।
খাবার: এখানকার রিসোর্টগুলোতে ফ্রেশ সামুদ্রিক মাছ (ইলিশ, পমফ্রেট, বাগদা চিংড়ি) এবং বাঙালি খাবারের চমৎকার স্বাদ পাওয়া যায়। বিকেলের দিকে বিচে বসে কাঁকড়া ভাজা বা মাছ ভাজা ট্রাই করতে ভুলবেন না।
প্রধান আকর্ষণ ও করণীয়
1. সমুদ্র সৈকতে হাঁটা: খুব ভোরে বা বিকেলে দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতে হাঁটাহাঁটি করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
2. লাল কাঁকড়া দেখা: জনশূন্য জায়গায় গেলেই বালির ওপর লাল গালিচার মতো কাঁকড়া দেখতে পাবেন। একটু শব্দ করলেই তারা গর্তে লুকিয়ে পড়ে।
3. ঝাউবন পরিদর্শন: বিচের ধারেই ঘন ঝাউবন রয়েছে, যা পিকনিক বা রিল্যাক্স করার জন্য উপযুক্ত।
4. অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস: মাঝেমধ্যে এখানে প্যারা-সেলিং বা কলা-বোট রাইডের মতো ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা থাকে।
5. মোহনা ভ্রমণ: হেঁটে বা টোটো নিয়ে মন্দারমণির মোহনার দিকে যাওয়া যায়, যেখানে নদী ও সমুদ্র মিলেছে।
কাছাকাছি ঘোরার জায়গা
তাজপুরকে কেন্দ্র করে আপনি একবেলা বা একদিনের জন্য নিচের জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন:
মন্দারমণি: তাজপুর থেকে খুব কাছেই।
শঙ্করপুর ও চন্দনেশ্বর মন্দির: গাড়ি নিয়ে ঘুরে আসা যায়।
দীঘা: মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের পথ।
ভ্রমণের সেরা সময়
তাজপুর ঘোরার সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। তবে বর্ষাকালে সমুদ্রের রূপ দেখতে চাইলে জুলাই-আগস্টেও যাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া বেশ গরম থাকে, তাই সেই সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
টিপস: সমুদ্র সৈকতে প্লাস্টিক বা নোংরা ফেলবেন না। প্রকৃতির সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করুন।
কিভাবে এখানে আসবেন
ট্রেনে: হাওড়া থেকে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, কাণ্ডারি এক্সপ্রেস বা পাহাড়িয়া এক্সপ্রেসে চড়ে রামনগর (Ramnagar) স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে অটো বা টোটো করে তাজপুর পৌঁছাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সময় লাগে।
বাসে: কলকাতা (ধর্মতলা বা গড়িয়া) থেকে দীঘাগামী যেকোনো এসি বা নন-এসি বাসে উঠে বালিসাই (Balisai) মোড়ে নামতে হবে। বালিসাই থেকে তাজপুর যাওয়ার জন্য প্রচুর অটো বা ভ্যান পাওয়া যায়।
গাড়িতে: কলকাতা থেকে কোলাঘাট, নন্দকুমার হয়ে কাঁথি পার করে বালিসাই। সেখান থেকে বাঁদিকের রাস্তা ধরে তাজপুর। দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিমি।
