শংকরপুর
দীঘার খুব কাছেই শান্ত, নির্জন এবং ঝাউবনে ঘেরা এক সুন্দর সমুদ্র সৈকত হলো শংকরপুর। যারা ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে নিরিবিলিতে সমুদ্র উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ জায়গা।
দর্শনীয় স্থান ও অভিজ্ঞতা
১. শঙ্করপুর সমুদ্র সৈকত (Shankarpur Sea Beach):
শঙ্করপুরের প্রধান আকর্ষণ হলো এখানকার নির্জন ও পরিষ্কার সমুদ্র সৈকত। ঝাউ বনের সারিতে ঘেরা এই সৈকতে লাল কাঁকড়াদের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। শান্ত পরিবেশে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার জন্য এটি চমৎকার।
২. শঙ্করপুর ফিশিং হারবার (Shankarpur Fishing Harbour):
এটি পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি জায়গা। এখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা প্রচুর মাছ ধরার ট্রলার দেখা যায়। জেলেদের ব্যস্ততা এবং সমুদ্র থেকে টাটকা মাছ নিয়ে আসার দৃশ্য দেখার মতো। এখান থেকে আপনি খুব সস্তায় টাটকা সামুদ্রিক মাছও কিনতে পারেন।
৩. লাইটহাউস বা আলোকস্তম্ভ:
শঙ্করপুরে একটি লাইটহাউস রয়েছে। এখান থেকে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ রূপ এবং উপকূলরেখার প্যানোরামিক ভিউ দারুণ লাগে।
৪. লাল কাঁকড়ার চর:
সৈকতের কিছু অংশে প্রচুর পরিমাণে লাল কাঁকড়া দেখা যায়। জোয়ারের সময় তারা গর্তে লুকিয়ে পড়লেও ভাটার সময় পুরো সৈকত লাল হয়ে থাকে।
৫. ঝাউ বন:
সৈকত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ ঝাউ বন পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য খুব ভালো। বনের মাঝখান দিয়ে সমুদ্রের দিকে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ রোমাঞ্চকর।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান:
শঙ্করপুর থেকে খুব কাছেই আরও কিছু সুন্দর জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়:
তাজপুর (Tajpur): শঙ্করপুর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সৈকতটি অত্যন্ত নিরিবিলি।
দিঘা (Digha): মাত্র ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম এবং অমরাবতী পার্ক দেখার মতো।
মন্দারমণি (Mandarmani): গাড়ি নিয়ে সমুদ্রের ধার দিয়ে যাওয়ার জন্য এই দীর্ঘ ড্রাইভ-ইন বিচটি বিখ্যাত।
চাঁদপুর সমুদ্রতট (Chandpur Beach): আরও একটু নির্জনতা চাইলে এই বিচে ঘুরে আসতে পারেন।
কোথায় থাকবেন (Accommodation)
শংকরপুরে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো জায়গা রয়েছে:
সরকারি আবাসন: বেনফিশের (Benfish) গেস্ট হাউস যেমন—কিনারা ও তটিনী সমুদ্রের খুব কাছে এবং বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া মৎস্য দপ্তরের মৎস্যগন্ধা লজটিও ভালো।
বেসরকারি হোটেল: সৈকতের কিছুটা দূরে দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টি এবং অন্যান্য অনেক আধুনিক রিসোর্ট ও হোটেল পাওয়া যায়।
খাওয়া-দাওয়া (Food)
যেহেতু এটি মৎস্য বন্দর, তাই এখানে টাটকা সামুদ্রিক মাছ (যেমন—পমফ্রেট, ইলিশ, বাগদা চিংড়ি) খাওয়ার সুযোগ সবথেকে বেশি। হোটেলের বাইরে সৈকতের ধারে ছোট ছোট দোকানে ভাজা মাছ, চা এবং ডাব পাওয়া যায়।
ভ্রমণের সেরা সময় (Best Time to Visit)
শীতকাল (নভেম্বর – ফেব্রুয়ারি): আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে, ঘুরে বেড়ানোর জন্য সেরা সময়।
বর্ষাকাল (জুলাই – সেপ্টেম্বর): যারা উত্তাল সমুদ্র এবং মেঘলা আকাশ ভালোবাসেন, তাদের জন্য বর্ষার শংকরপুর এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
জরুরি টিপস: শংকরপুরের সমুদ্রের কিছু অংশে বোল্ডার বা পাথর ফেলা আছে এবং জোয়ারের সময় ঢেউ বেশ শক্তিশালী হয়। তাই সমুদ্রে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এছাড়া রাতের বেলা সৈকত এলাকা বেশ নির্জন হয়ে যায়, তাই দলবদ্ধভাবে থাকাই শ্রেয়।
কিভাবে এখানে আসবেন
শংকরপুর কলকাতা থেকে প্রায় ১৮০ কিমি দূরে অবস্থিত।
ট্রেনে: হাওড়া থেকে দীঘাগামী যেকোনো ট্রেনে (যেমন—তাম্রলিপ্ত বা কান্ডারী এক্সপ্রেস) উঠে রামনগর স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে অটো বা ট্যেকারে ১০-১৫ মিনিটে শংকরপুর পৌঁছে যাবেন।
বাসে: ধর্মতলা বা করুণাময়ী থেকে দীঘাগামী সরকারি বা বেসরকারি বাসে উঠে ১৪ মাইল (Choudah Mile) বাস স্টপেজে নামতে হবে। সেখান থেকে ভ্যান বা অটোতে করে সৈকতে পৌঁছানো যায়।
গাড়িতে: কলকাতা থেকে কোলাঘাট, নন্দকুমার ও কাঁথি হয়ে দীঘা যাওয়ার পথেই শংকরপুর পড়ে। নিজস্ব গাড়িতে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা।
