মারতাম
মারতাম (Martam) পূর্ব সিকিমের একটি অত্যন্ত শান্ত, সবুজে ঘেরা এবং ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। যারা গ্যাংটকের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির একদম কোলে নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তাদের জন্য মারতাম এক আদর্শ গন্তব্য।
মারতাম মূলত তার শান্ত পরিবেশ, মনোরম আবহাওয়া এবং আদিম প্রকৃতির জন্য পরিচিত। এখান থেকে হিমালয়ের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া এখানকার ছাপানো ধানি জমি (Step Farming/Terrace Farming) এবং চারিদিকের ঘন জঙ্গল প্রকৃতিপ্রেমীদের দারুণ আকর্ষণ করে। এটি একটি ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
মারতামের দর্শনীয় স্থান (Sightseeing in & around Martam)
মারতামে দেখার মতো অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে, যা আপনি ১-২ দিনেই ঘুরে ফেলতে পারেন:
মারতামের ধানি জমি (Martam Paddy Fields): পাহাড়ি খাঁজে খাঁজে সবুজ ধানের ক্ষেত এখানকার মূল সৌন্দর্য। পায়ে হেঁটে এই গ্রাম্য পথ দিয়ে ঘুরে বেড়ানো এক অদ্ভুত শান্তি দেয়।
রুমটেক মনাস্ট্রি (Rumtek Monastery): মারতাম থেকে মাত্র ৫-৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সিকিমের অন্যতম বৃহত্তম এবং বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার। এর স্থাপত্য এবং শান্ত পরিবেশ দেখার মতো।
জওহরলাল নেহেরু বোটানিক্যাল গার্ডেন (Jawaharlal Nehru Botanical Garden): রুমটেকের কাছেই অবস্থিত এই বাগানে বহু প্রজাতির অর্কিড, ওক গাছ এবং হিমালয়ের বিভিন্ন উদ্ভিদ দেখা যায়।
রাই খলা (Rai Khola): এটি একটি সুন্দর পাহাড়ি নদী বা ঝোরা, যেখানে আপনি স্থানীয় গ্রামীণ জীবন উপভোগ করতে পারবেন এবং শান্তিতে সময় কাটাতে পারবেন।
পাখির চোখ ও ট্রেকিং: মারতামের জঙ্গলে প্রচুর হিমালয়ান পাখি দেখা যায়, তাই বার্ড ওয়াচারদের জন্য এটি স্বর্গ। এছাড়া ছোটখাটো জঙ্গল ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থাও আছে।
কখন যাবেন?
মারতামের আবহাওয়া সারা বছরই মনোরম থাকে, তবে ভ্রমণের সেরা সময় হলো:
মার্চ থেকে মে (বসন্তকাল): এই সময় চারিদিক ফুলে ফুলে ভরে থাকে, আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং আবহাওয়া খুব মনোরম হয়।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর (শীতের শুরু): কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য এই সময়টা সেরা। আকাশ একদম মেঘমুক্ত থাকে।
নোট: বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) পাহাড়ে ধস নামার প্রবণতা থাকে, তাই এই সময়টা এড়িয়ে চলাই ভালো।
কোথায় থাকবেন?
মারতামে থাকার জন্য চমৎকার কিছু ব্যবস্থা রয়েছে:
১. মারতাম ভিলেজ রিসোর্ট (Martam Village Resort): এটি এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় রিসোর্ট। ঐতিহ্যবাহী সিকিমিজ শৈলীতে তৈরি এই রিসোর্ট থেকে পাহাড় ও ধানি জমির অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।
২. হোমস্টে (Homestays): স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে এবং কম খরচে থাকতে চাইলে মারতামের স্থানীয় হোমস্টেগুলো সেরা বিকল্প। এখানে আপনি খাঁটি সিকিমিজ আতিথেয়তা এবং ঘরের তৈরি সুস্বাদু খাবার পাবেন।
মারতামে গেলে অবশ্যই স্থানীয় সিকিমিজ খাবার চেখে দেখবেন। থুপকা (Thukpa), মোমো (Momos), গুন্ড্রুক (Gundruk- এক ধরণের গেঁজানো শাকের স্যুপ), এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি বাঁশের কোঁড়লের (Bamboo Shoot) তরকারি অত্যন্ত সুস্বাদু। এছাড়া চাইলে স্থানীয় পানীয় ‘চ্যাং’ (Chaang) চেখে দেখতে পারেন।
টিপস: মারতাম একটি প্লাস্টিক-মুক্ত এবং পরিবেশ-বান্ধব এলাকা। তাই ভ্রমণের সময় যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলবেন না। স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।
কিভাবে এখানে আসবেন
মারতাম পৌঁছানো বেশ সহজ। শিলিগুড়ি বা এনজেপি (NJP) থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১১৫ কিলোমিটার।
বিমানে: নিকটবর্তী বিমানবন্দর হলো সিকিমের পাকইয়ং (Pakyong)। তবে বড় বিমানবন্দর হলো বাগডোগরা (Bagdogra)। বাগডোগরা থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি মারতাম পৌঁছাতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
ট্রেনে: নিকটবর্তী রেল স্টেশন হলো নিউ জলপাইগুড়ি (NJP)। এখান থেকে সিংথাম (Singtham) হয়ে মারতাম যাওয়ার গাড়ি পেয়ে যাবেন।
গ্যাংটক থেকে: গ্যাংটক থেকে মারতামের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। গ্যাংটক থেকে গাড়ি নিয়ে মাত্র ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টায় এখানে পৌঁছানো যায়।
