লাহিড়ী বাবার আশ্রম

হুগলি জেলার রাজহাটে অবস্থিত লাহিড়ী বাবার আশ্রম (যোগিরাজ শ্রী শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত) শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশের জন্য পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক স্থান। জলের ওপর তৈরি দৃষ্টিনন্দন শ্বেতশুভ্র মন্দির ও মনোরম বাগান এখানকার মূল আকর্ষণ।

প্রধান আকর্ষণ ও পরিবেশ

রাজহাটের লাহিড়ী বাবার আশ্রমের প্রধান আকর্ষণ এর স্থাপত্যরীতি, প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতা এবং আধ্যাত্মিক আবহ। শহুরে কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এই আশ্রমটি মনকে প্রশান্ত করার মতো এক বিশেষ পরিবেশ তৈরি করে।

১. স্থাপত্য ও প্রধান জলমন্দির

 জলের মাঝে শ্বেতশুভ্র মন্দির: আশ্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি সুবিশাল ও পরিষ্কার জলাশয়ের ওপর গড়ে ওঠা মন্দিরটি। সাদা মার্বেলের সূক্ষ্ম কারুকার্য ও গম্বুজযুক্ত এই স্থাপত্য দূর থেকে ভেসে থাকা একটি প্রাসাদের মতো দেখায়।

 সেতু সংযোগ: মূল আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে জলাশয়ের ওপর তৈরি সুদৃঢ় সেতুর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা মূল গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। সেতুর দুই পাশে শান্ত জলরাশি দর্শনে এক অপূর্ব অনুভূতি জাগে।

 বিগ্রহ ও ধ্যানকক্ষ: মন্দিরের অভ্যন্তরে যোগিরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের প্রতিকৃতি ও পবিত্র পরিবেশ ধ্যানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

লাহিড়ী বাবার আশ্রম হুগলি lahiri baba ashram আধারালয়
লাহিড়ী বাবার আশ্রম হুগলি lahiri baba ashram আধারালয়

২. প্রাকৃতিক শোভা ও চত্বর

 পরিপাটি বাগান: মন্দির চত্বরজুড়ে রয়েছে পরিকল্পিত ফুলের বাগান, সবুজ ঘাসের লন এবং নানা রকমের ছায়াঘেরা বৃক্ষ। প্রতিটি অংশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্নভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

 জলাশয় ও উন্মুক্ত চাতাল: মন্দিরের চারপাশের দিঘিটির পাড় বাঁধানো এবং বসার জন্য সুন্দর জায়গা রয়েছে। বিকেলবেলায় জলের ওপর মৃদু বাতাস ও মন্দিরের প্রতিচ্ছবি এক স্নিগ্ধ দৃশ্য তৈরি করে।

৩. আধ্যাত্মিক ও ধ্যানমগ্ন পরিবেশ

 নিস্তব্ধতার সংস্কৃতি: আশ্রমের ভেতরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা হইচই নিষিদ্ধ। দর্শনার্থী ও ভক্তরা এখানে আসেন মূলত মানসিক শান্তি ও আত্মিক অনুভূতির সন্ধানে।

 ক্রিয়াযোগের বাতাবরণ: শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের দর্শনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্থানটিতে সার্বক্ষণিক এক শান্ত, গম্ভীর ও আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য বজায় থাকে।

 সন্ধ্যা আরতি ও প্রার্থনা: গোধূলিলগ্নে যখন আশ্রমের আলোগুলো জ্বলে ওঠে এবং ধূপ-ধুনোর সুবাসের সাথে মৃদু ঘণ্টাধ্বনি ও আরতি শুরু হয়, তখন পুরো পরিবেশটি এক অনন্য রূপ ধারণ করে। আশ্রমের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক রূপটি সবচেয়ে ভালো উপলব্ধি করা যায় খুব সকালে অথবা পড়ন্ত বিকেলে, যখন রোদের তেজ কমে এসে চারপাশ শান্ত রূপ নেয়।

লাহিড়ী বাবার আশ্রম হুগলি lahiri baba ashram আধারালয়
লাহিড়ী বাবার আশ্রম হুগলি lahiri baba ashram আধারালয়

প্রয়োজনীয় তথ্য ও নিয়মাবলী

 সময়সূচি: আশ্রম সাধারণত সকাল ৭:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা এবং বিকেলে ৩:৩০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭:৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে (সময় ঋতুভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে)।

 আচরণের নিয়ম: আশ্রম চত্বরের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা এবং মন্দিরের ভেতরের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলা আবশ্যক।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

একদিনের ভ্রমণে এই আশ্রমের সাথে আরও কিছু জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়:

 * ব্যান্ডেল চার্চ

 * হুগলি ইমামবাড়া

 * হংসেশ্বরী মন্দির ও অনন্ত বাসুদেব মন্দির (বাঁশবেড়িয়া)

লাহিড়ী বাবার আশ্রম হুগলি lahiri baba ashram আধারালয়

কিভাবে এখানে আসবেন

ট্রেনে: হাওড়া স্টেশন থেকে মেইন লাইনের লোকাল ট্রেন (যেমন বর্ধমান মেইন, মেমারি, কাটোয়া বা পাণ্ডুয়া লোকাল) ধরে ব্যান্ডেল জংশন অথবা মগরা স্টেশনে নামতে হবে।

ব্যান্ডেল বা মগরা স্টেশন থেকে টোটো অথবা অটো রিজার্ভ করে সরাসরি রাজহাট লাহিড়ী বাবার আশ্রমে যাওয়া যায় (দূরত্ব প্রায় ৫–৭ কিমি)।

সড়কপথে: কলকাতা থেকে দিল্লি রোড (NH 19 / পুরনো NH 2) হয়ে মগরা ক্রসিং পেরিয়ে রাজহাটের দিকে সহজেই পৌঁছানো যায়।

Google Maps

Scroll to Top