হুগলি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ ইতিহাসের ধারক হুগলি জেলা তার প্রাচীন রূপনারায়ণ ও গঙ্গা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি অনন্য অঞ্চল। এটি ব্যান্ডেল চার্চ, চন্দননগরের ফরাসি ঐতিহ্য এবং ইমামবাড়ার মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ইউরোপীয় উপনিবেশের স্মৃতি বহন করে। এছাড়া বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির, তারকেশ্বর ও কামারপুকুরের জন্য এই জেলাটি ধর্মীয় ও সংস্কৃতির এক অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
প্রধান পর্যটন কেন্দ্রসমূহ
১. ব্যান্ডেল চার্চ (Bandel Church)
১৫৯৯ সালে পর্তুগিজদের তৈরি এই চার্চটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন খ্রিস্টান উপাসনালয়। এটি ‘ব্যাসিলিকা অফ দ্য হোলি রোজারি’ নামেও পরিচিত। ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং শান্ত পরিবেশের জন্য বহু পর্যটক এখানে আসেন।
২. হুগলি ইমামবাড়া (Hooghly Imambara)
দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসীনের অর্থায়নে তৈরি এই সুবিশাল শিয়া মসজিদটি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। এর ইসলামিক স্থাপত্য, ঐতিহাসিক ক্লক টাওয়ার এবং বিশাল সূর্যঘড়ি (Sun-dial) বিশেষ দর্শনীয়।
৩. বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির (Hangseshwari Temple, Bansberia)
তাান্ত্রিক স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এই মন্দিরটি। ১৩টি রত্ন বা চূড়া বিশিষ্ট এই মন্দিরের গঠনশৈলী মানবদেহের ‘ষটচক্র’-এর প্রতীক। এর ঠিক পাশেই রয়েছে টেরাকোটা শিল্পের অন্যতম সেরা নিদর্শন অনন্ত বাসুদেব মন্দির।
৪. চন্দননগর (Chandannagar)
সাবেক ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর তার ফরাসি স্থাপত্য ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এখানকার গঙ্গার পাড়ে অবস্থিত চন্দননগর স্ট্র্যান্ড (Strand), ফরাসি মিউজিয়াম (Institut de Chandernagore) এবং সেক্রেড হার্ট চার্চ অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পূজা বিশ্ববিখ্যাত।
৫. তারকেশ্বর মন্দির (Tarakeswar Temple)
১৮ শতকে নির্মিত এই শিব মন্দিরটি সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান হিন্দু তীর্থক্ষেত্র। সারা বছরই, বিশেষ করে শ্রাবণ ও চৈত্র মাসে হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন।
৬. কামারপুকুর (Kamarpukur)
শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মস্থান এই কামারপুকুর। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধীনে থাকা এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র ও শান্ত। এখানে ঠাকুর রামকৃষ্ণের পৈতৃক ভিটা এবং একটি স্মৃতি মন্দির রয়েছে।
৭. শ্রীরামপুর (Serampore)
শ্রীরামপুর ছিল প্রাচীন ডেনিশ (ডেনমার্ক) উপনিবেশ। ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক শ্রীরামপুর কলেজ, সেন্ট ওলাফ চার্চ এবং ডেনিশ রাজবাড়ির স্থাপত্য দেখতে বহু ইতিহাসপ্রেমী এখানে আসেন।
৮. লাহিড়ী বাবার আশ্রম
হুগলির ব্যান্ডেলে অবস্থিত শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের স্মৃতিবিজড়িত লাহিড়ী বাবা আশ্রম বা ‘লাহিড়ী মন্দির’ একটি সুপরিচিত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ক্রিয়াযোগের মহান গুরু লাহিড়ী মহাশয়ের ভক্ত ও শান্তিকামী মানুষের জন্য এই স্থানটি অত্যন্ত পবিত্র ও ধ্যানোপযোগী।
৯. শরৎ চন্দ্র স্মৃতি মন্দির (Sarat Chandra Smriti Mandir)
হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে অবস্থিত শরৎচন্দ্র স্মৃতি মন্দির হলো অপরাজিত কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান ও স্মৃতিকেন্দ্র। সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটিতে শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত নানা সামগ্রী, দুর্লভ ছবি ও গ্রন্থমালা সংরক্ষিত রয়েছে।
