দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির

উত্তর কলকাতার কাছে হুগলি (গঙ্গা) নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী কালী মন্দির বাংলার অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র। ১৮৫৫ সালে জানবাজারের রানি রাসমণি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দীর্ঘ সাধনা ও লীলাক্ষেত্র হিসেবে এই স্থান বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

মন্দির চত্বরের প্রধান দ্রষ্টব্য

দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরটি প্রায় ২৫ একর জায়গার ওপর বিস্তৃত। এখানে প্রতিটি স্থাপনার আলাদা স্থাপত্যরীতি, আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

মূল ভবতারিণী মন্দির (নবরত্ন মন্দির)

স্থাপত্য শৈলী: বাংলার চিরাচরিত নবরত্ন (নয়টি চূড়া) স্থাপত্যরীতিতে তৈরি। তিনতলা বিশিষ্ট এই মন্দিরটি ৪৬ বর্গফুট চওড়া বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং উচ্চতা ১০০ ফুটেরও বেশি।

গর্ভগৃহ ও বিগ্রহ: মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে রূপার তৈরি সহস্রদল পদ্ম। সেই পদ্মের ওপর শ্বেতপাথরের শায়িত শিবের বুকের ওপর অধিষ্ঠিত কষ্টিপাথরে নির্মিত দেবী ভবতারিণী। দেবীর পদতলে মহাদেব ছাড়াও রয়েছে সোনার অলঙ্কার ও বেনারসি শাড়ির সাজ।

তাৎপর্য: ১৮৫৫ সালের ৩১ মে (স্নানের দিন) রানি রাসমণি স্বয়ং এই বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রামকুমার চট্টোপাধ্যায় (শ্রীরামকৃষ্ণের অগ্রজ) প্রথম প্রধান পূজারি হিসেবে নিযুক্ত হন।

দ্বাদশ শিব মন্দির

অবস্থান ও বিন্যাস: গঙ্গার চাঁদনি ঘাটের দুই পাশে এক সারিতে মোট ১২টি শিব মন্দির অবস্থিত—ঘাটের উত্তর দিকে ৬টি এবং দক্ষিণ দিকে ৬টি।

স্থাপত্য: প্রতিটি মন্দির ঐতিহ্যবাহী আটচালা রীতিতে নির্মিত।

অভ্যন্তর: প্রতিটি মন্দিরে কালো পাথরে খোদাই করা শিবলিঙ্গ রয়েছে। এই বারোটি শিবলিঙ্গের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে (যেমন—যোগেশ্বর, বিশ্বেশ্বর, বৈদ্যনাথ, জগদীশ্বর ইত্যাদি)। শ্রীরামকৃষ্ণদেব দেবী দর্শনের আগে বা পরে প্রায়শই এই মন্দিরগুলিতে ঘুরে ঘুরে শিবের স্তব করতেন।

শ্রীশ্রীরাধাকান্ত মন্দির (বিষ্ণু মন্দির)

অবস্থান: মূল ভবতারিণী মন্দিরের উত্তর-পূর্ব কোণে এই মন্দিরটি অবস্থিত।

বিগ্রহ ও ইতিহাস: মন্দিরে রাধাকৃষ্ণের যুগল মূর্তি পূজিত হয়। ইতিহাস অনুসারে, একবার পূজার সময় অসাবধানতাবশত কৃষ্ণের মূর্তির একটি পা ভেঙে গেলে শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতেরা মূর্তিটি বিসর্জনের পরামর্শ দেন। কিন্তু শ্রীরামকৃষ্ণ যুক্তি দিয়ে ভাঙা পা মেরামত করেন এবং সেই বিগ্রহই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আজও পূজিত।

মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)
মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)

শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনকক্ষ (শ্রীরামকৃষ্ণের ঘর)

অবস্থান ও পরিবেশ: নাটমন্দির ও দ্বাদশ শিব মন্দিরের ঠিক পেছনে, উত্তর-পশ্চিম কোণে গঙ্গার দিকে মুখ করা একটি ঘর।

স্মৃতিচিহ্ন: শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর জীবনের দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর এই ঘরে অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরের ভেতরে রয়েছে তাঁর ব্যবহৃত দুটি কাঠের তক্তপোশ (খাট), একটি ছোট আলমারি এবং যেখানে বসে তিনি ভক্তদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক আলোচনা করতেন সেই স্থানটি। স্বামী বিবেকানন্দ (নরেন্দ্রনাথ), রাখাল মহারাজ, গিরিশ ঘোষ প্রমুখ এই ঘরেই তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।

পঞ্চবটী বন ও ঝাউতলা

পরিবেশ: মন্দির প্রাঙ্গণের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত নির্জন অরণ্যময় এলাকা।

পাঁচটি বৃক্ষ: শ্রীরামকৃষ্ণ স্বহস্তে পাঁচটি পবিত্র গাছ রোপণ করে এই পঞ্চবটী তৈরি করেছিলেন—অশ্বত্থ, বট, বেল, অশোক এবং আমলকী।

সাধনার স্থান: এই পঞ্চবটীর কুটিরে এবং সংলগ্ন ঝাউতলায় শ্রীরামকৃষ্ণ তন্ত্র, বেদান্ত, ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সাধনা করে সর্বধর্ম সমন্বয়ের উপলব্ধি লাভ করেছিলেন। এখানে একটি ধ্যানের কুটির আজও সংরক্ষিত।

চাঁদনি ঘাট ও স্নানের ঘাট

বিন্যাস: হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত সুপ্রশস্ত বাঁধানো ঘাট। মাঝখানে রয়েছে একটি ছাদযুক্ত স্তম্ভবিশিষ্ট মণ্ডপ, যা ‘চাঁদনি’ নামে পরিচিত।

ব্যবহার: রানি রাসমণি ও মথুরবাবু নৌকায় এলে এই ঘাটে নামতেন। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রতিদিন এই ঘাটে গঙ্গা স্নান করতেন। ঘাটের উত্তর প্রান্তের নির্জন অংশটি একসময় সাধকদের ধ্যানের জন্য ব্যবহৃত হতো।

নাটমন্দির

অবস্থান: ভবতারিণী মন্দিরের ঠিক মুখোমুখি অবস্থিত বিশাল এক মুক্ত সভাগৃহ।

কাঠামো: বিশালাকার স্তম্ভ ও অলঙ্কৃত খিলান দিয়ে তৈরি। এখানে বসে ভক্তরা দেবীর আরতি ও রূপ দর্শন করেন। অতীতে এখানে কীর্তন, যাত্রা ও ধর্মীয় আলোচনা হতো, যার বহু ঘটনা শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে উল্লেখিত।

মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)
মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)

নহবতখানা

অবস্থান: শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরের ঠিক উত্তরে এবং পঞ্চবটীর কাছাকাছি একটি দোতলা গোল ঘর।

শ্রীমা সারদা দেবীর বাস: নহবতখানার নিচের অত্যন্ত ছোট ও স্বল্পালোকিত ঘরটিতে শ্রীমা সারদা দেবী দীর্ঘকাল বাস করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ ও তাঁর ভক্তদের রান্নাবান্না ও সেবাকার্য পরিচালনা করতেন। এটি মা সারদার তপস্যা ও ত্যাগের পবিত্র প্রতীক।

রানি রাসমণির স্মৃতিসৌধ

অবস্থান: মন্দির প্রাঙ্গণের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে নহবতখানার বিপরীত দিকে।

তাৎপর্য: দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা করুণাময়ী রানি রাসমণির স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত একটি ছোট স্মৃতিমন্দির, যেখানে রানির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

সময়সূচি ও দর্শন

গ্রীষ্মকালীন সময়: ভোর ৫:৩০ থেকে দুপুর ১২:৩০ এবং বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ৯:০০ পর্যন্ত।

শীতকালীন সময়: সকাল ৬:০০ থেকে দুপুর ১২:৩০ এবং বিকেল ৩:০০ থেকে রাত ৮:৩০ পর্যন্ত।

আরতি: দুপুর ১২:০০ টায় ভোগ আরতি এবং সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ দিন: অমাবস্যা (বিশেষত দীপান্বিতা কালীপূজা), মকর সংক্রান্তি, এবং কল্পতরু উৎসবের দিন মন্দির চত্বরে বিপুল ভক্তসমাগম হয়।

ভ্রমণ টিপস ও নিয়মাবলী

নিরাপত্তা ও স্কাইওয়াক: দক্ষিণেশ্বর স্টেশন থেকে মন্দির গেট পর্যন্ত আধুনিক ‘দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক’ রয়েছে, যা পথচারী ও বয়স্কদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক (এস্কেলেটর ও লিফট উপলব্ধ)।

ইলেকট্রনিক্স ও জুতো: মূল মন্দির চত্বরে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং চামড়ার জিনিসপত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। স্কাইওয়াক ও মন্দির গেটের কাছে নির্দিষ্ট লকার ও জুতো রাখার কাউন্টার রয়েছে।

ভোগ প্রসাদ: মন্দিরের নির্ধারিত কাউন্টার থেকে কুপন সংগ্রহ করে দুপুরের অন্নভোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকে।

সংযুক্ত ভ্রমণ: দক্ষিণেশ্বর দর্শনের পর গঙ্গার ফেরি পার হয়ে মাত্র ১০-১৫ মিনিটে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয় বেলুড় মঠ ঘুরে নেওয়া যায়।

মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)
মন্দির (Temple), ভবতারিণী (Goddess Bhavatarini), রানি রাসমণি (Rani Rashmoni), রামকৃষ্ণ পরমহংস (Ramakrishna Paramahamsa), সারদা দেবী (Sarada Devi), গঙ্গা নদী (Ganges River), নবরত্ন (Nine spires), দ্বাদশ শিবমন্দির (Twelve Shiva Temples), রাধাকান্ত জিউ (Radhakanta Jiu), পঞ্চবটী (Panchavati), নাটমন্দির (Natmandir), চাঁদনি ঘাট (Chandni Ghat), সাধনা (Spiritual practice), আধ্যাত্মিকতা (Spirituality), তীর্থক্ষেত্র (Pilgrimage), ভক্তবৃন্দ (Devotees), প্রসাদ (Sacred offering), আরতি (Prayer ritual), কালীপূজা (Kali Puja), স্কাইওয়াক (Skywalk)

কিভাবে এখানে আসবেন

মেট্রো: কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনের উত্তর প্রান্তিক স্টেশন দক্ষিণেশ্বর। স্টেশন থেকে মন্দির চত্বরে সরাসরি পৌঁছানোর জন্য স্কাইওয়াক বা হাঁটা পথ রয়েছে (দূরত্ব মাত্র ৩-৪ মিনিট)।

রেলপথ: শিয়ালদহ উত্তর শাখা থেকে ডানকুনি বা বর্ধমান লোকাল ধরে সরাসরি দক্ষিণেশ্বর রেলওয়ে স্টেশনে নামা যায়।

সড়কপথ: কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী সরাসরি বাস, ক্যাব ও অটো পরিষেবা রয়েছে।

জলপথ: বেলুড় মঠ থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে বেলুড় মঠ পর্যন্ত নিয়মিত ফেরি সার্ভিস চলে।

Google Maps

Scroll to Top